গত ৬ মার্চ পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে প্যারাগুয়েতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রোনালদিনহো। সেই থেকে এক মাসের মতো দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির আদালতে কাটাতে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান বিশ্বকাপ জয়ীকে। অবশেষে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। তবে জামিন পেতে মোট ১৬ লাখ ডলার গুনতে হয়েছে রোনালদিনহো ও তার ভাই রবার্ত অ্যাসিসকে। অবশ্য এতেও পুরোপুরি পার পাচ্ছেন না রোনালদিনহো ভাইয়েরা। জেল থেকে মুক্তি মিললেনও প্যারাগুয়ের রাজধানী অ্যাসানসিওনে পালমারোগা নামের একটি চার তারকা হোটেলে ‘গৃহবন্দি’ থাকতে হচ্ছে। বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই থাকতে হবে তাকে।
বার্সেলোনা, পিএসজি ও এসি মিলানের সাবেক মিডফিল্ডারের উকিল আগেও একবার জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেটি নাকচ হয়। দ্বিতীয়বারের আবেদনে দুজনে ৮ লাখ ডলার জামিন জরিমানা দিয়ে সফল হন রোনালদিনহোরা। তাই এই ফুটবল জাদুকরের ৩২ দিনের কারাবাস শেষ হয়।
এক ভিডিও বার্তায় জামিনের কথা জানিয়ে বিচারক গুস্তাভো আমারিয়া বলেন, ‘এত অর্থ জরিমানা দেওয়ার পর তাদের জেলে রাখা যায় না। তাছাড়া তারা দুজনই নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে ছেড়ে বিচার শেষ হওয়ার আগে কোথাও যাবেন না। এদিকে নির্দিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাকে নিশ্চিত করেছে যে তারা নিজেদের খরচে ওদের দুজনকে গৃহবন্দি রাখবে।’ ওই হোটেলে থাকা অবস্থায় অতিথিদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন রোনালদিনহো।
এই ঘটনার আগে থেকেই নিজ দেশ ব্রাজিলে এক প্রকার গৃহবন্দি ছিলেন রোনালদিনহো। অপরিশোধিত কর এবং ব্রাজিলে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের দায়ে আরোপ হওয়া জরিমানা না দেওয়ায় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে রোনালদিনহোর ব্রাজিলিয়ান ও স্প্যানিশ পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। সেই থেকে তার ব্রাজিলের বাইরে যাওয়া বন্ধ ছিল। কিন্তু গত মার্চ ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি চ্যারিটিতে ও একটি বইয়ের প্রচারণায় অংশ নিতে প্যারাগুয়ে গিয়ে ধরা পড়েন পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে।
