ছেলেদের বিরুদ্ধে মাকে পিটিয়ে বাড়ি তাড়ানোর অভিযোগ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৪:০৬ পিএম

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জমির জন্য মা জরিনা বেওয়াকে (৭০) পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ‍উঠেছে। আহত মা জরিনা বেওয়া বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় বুধবার জরিনা বেওয়া বাদী হয়ে তিন জনকে আসামি করে হাতীবান্ধা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার উত্তর বিছনদই এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। আহত জরিনা বেওয়া উপজেলার উত্তর বিছনদই এলাকার মৃত আফছার আলীর স্ত্রী। 

মারধরের ঘটনায় জরিনা বেওয়াকে সাহায্য করায় বুধবার সকালে তার মেয়ে জামাই দবিয়ার রহমানকে (৩৩) কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তিনিও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আহত দবিয়ার রহমান বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার উত্তর বিছনদই এলাকার মৃত আফছার আলীর ছেলে হুমায়ুন কবির (৩২), শফিকুল ইসলাম(৫০), হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী এছমোতারা বেগম (২৮), আজগর আলীর ছেলে লেবু (২৮), আব্দুল মতিনের ছেলে মমিনুর (২৮), মৃত ছফর উদ্দিনের ছেলে মায়াজ্জল(৩৫), একই উপজেলার কেতকী বাড়ী এলাকার আতোয়ার রহমানের ছেলে হামিদুল ইসলাম (২৫), আজগার আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম (৩০)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফছার আলীর প্রথম স্ত্রী মারা গেলে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে জরিনাকে বিয়ে করেন।

আফছার আলী মারা যাওয়ার পর টাকা জমিয়ে নিজ নামে তিন বিঘা জমি কেনেন জরিনা। এর মধ্যে এক বিঘা এগারো শতক জমি ছেলে হুমায়ুন কবিরকে ও এগারো শতক চার কন্যাকে দানপত্র করে দেন।  আর নিজের নামে এগারো শতক জমি রেখে দেন।

মেয়েদের জমি দেয়ায় ছেলেরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তখন থেকেই শুরু করে নির্যাতন। এমন অবস্থায় গত ০৭ এপ্রিল জরিনা বেওয়াকে মারধর করে বাড়ি থেকে দেন ছেলেরা। পরে মেয়ে জামাই দবিয়ার রহমান শাশুড়িকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। এরই জেরে ঘটনার পরদিন সকালে তার জামাতা দবিবার রহমানকে কুপিয়ে জখম করেন তারা।

জরিনা বেওয়া বলেন, মেয়েদের জমি লিখে দেওয়ায় আমার ছেলে আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করে। আমাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। আমাকে ঘরের ভেতর তালা মেরে রাখে। এমনকি খাবারের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দেয়। আমার মেয়ে জামাই দবিয়ার রহমান আমাকে সাহায্য করায় তারা তাকে কুপিয়ে জখম করেছে। আমি এর বিচার চাই।

অভিযুক্ত জরিনা বেওয়ার ছেলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি যদি আমার মাকে মারধর করি তাহলে আপনারা এসে তদন্ত করে দেখেন। তিনি স্বভাবের মহিলা। মেয়ে জামাইয়ের কথা শুনে চলে।’

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত নাজির হোসেন বলেন, দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত