নারায়ণগঞ্জে মারা যাওয়া রিকশাচালক আব্দুর রহিমের (৫০) লাশ শনিবার রাত ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু গ্রামের বাড়িতে এনে পরিবারের লোকজন গোপণে দাফনের চেষ্টা করে। গ্রামবাসি বিষয়টি টের পেয়ে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সন্দেহে লাশ গ্রামে ঢুকতে ও দাফনে বাঁধা দেয়।
পরিবারের লোকজন বাঁধার মুখে লাশ নিয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে লাশ ও লাশের সাথে থাকা সবাইকে তাদের হেফাজতে নেয়। এরপর গাড়ির চালকসহ লাশের সাথে থাকা ৫ জনকে নিয়ে বৃ-আঙ্গারু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
মৃত রিকশাচালক আব্দুর রহিম ওই গ্রামের রওশন আলীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন সপরিবারে নারায়ণগঞ্জ থেকে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, নারায়ণগঞ্জে মারা যাওয়া আব্দুর রহিমের লাশ রবিবার দুপুরে বিশেষ ব্যবস্থায় তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিকেল টিম লাশ ও লাশের সাথে থাকা ৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম খান বলেন, লাশ ও লাশের সাথে থাকা স্বজনদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে সে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ছিল কি না। যেহেতু লাশটি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছে তাই সব ধরণের শতর্কমূলক ব্যবস্থা নিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লাশটি গ্রামে আনার বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়নি। এলাকাবাসীর দেওয়া খবরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ দিকে নিহত রহিমের স্বজনদের দাবি, করোনা নয় সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
