ছোটপর্দা থেকে বড় পর্দায় পা রাখা সিয়াম আহমেদ চলচ্চিত্রেও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সম্প্রতি এই অভিনেতা ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমার কাজ করেছেন। সাধারণ ছুটিতে আর দশজনের মতো সিয়ামও ঘরবন্দী সময় পার করছেন। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে সিয়াম জানালেন তার ঘরবন্দী সময়ের গল্প।
ঘরবন্দী সময় কেমন কাটছে?
ভালোই কাটছে সময়। আগে যে কাজগুলো করতে পারিনি সেগুলো করার চেষ্টা করছি। নিজেকে সময় দিচ্ছি। এই তো।
‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমার শুটিংয়ে বেশ কিছুদিন জাহাজে কাটিয়েছিলে…
জাহাজে শুটিংয়ের সময় মিশ্র অনুভূতি হয়েছে। কারণ জাহাজে থাকাকালীন সময়গুলো বেশ টেনশনের ছিল আবার কাজের চাপও ছিল। নিজেদের ভেতরে নিজেদের মতো করে সময় কাটানোও গেছে। জাহাজে বাচ্চারা ছিল। তাদের সঙ্গেও ভালো সময় কেটেছে। অপর দিকে পরিবারের সবাই নানা টেনশন করত, বাইরে অবস্থান করছি। শেষ পর্যন্ত তো শুটিংই বন্ধ করে দিতে হলো। পরে সেখান থেকে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি।
বাসায় গৃহস্থালি কোনো কাজ করা হচ্ছে কি?
মাঝে মাঝে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করি। যতটা হেল্প করা সম্ভব হয় ততটুকুই করি।
সময় কাটে কীভাবে?
স্ক্রিপ্ট পড়ছি, বেশ কিছু। এর বাইরে ওয়েব সিরিজ দেখি। সিনেমা দেখা হচ্ছে। বই-ও পড়ছি। পাশাপাশি নিজের কিছু আইডিয়া জেনারেট করছি। আগামী কাজগুলোর জন্য ভেতরে-ভেতরে প্রস্তুতিও নিচ্ছি।
করোনাভাইরাসের প্রভাব সিনেমায়…
সিনেমায় করোনার প্রভাব অলরেডি পড়ে গেছে। শুধু সিনেমা নয়, সকল ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে গেছে। ভবিষ্যতের কঠিন সময় মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। সেভাবে প্ল্যানিং নিয়ে মাঠে নামতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিতে যারা দিন আনে দিন খায় তাদের জন্য কঠিন একটা সময় হতে যাচ্ছে। কতটা সাহায্য করা সম্ভব হবে সেটা জানি না, তবে সবাইকে সাধ্যমতো সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। একটা সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। সিনেমার লোকদের জন্য বলব, তেমনি নাটকের লোকদের জন্যও বলব তাদের যারা ভালো অবস্থানে আছেন তারা যেন এই টেকনিক্যাল মেম্বারদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। এমন অনেক ফ্যামিলি আছে, এমন অনেক আর্টিস্ট আছে যারা মধ্যবিত্ত, হয়তো কেউ সমস্যায় ফেইস করছেন কিন্তু তারা চাইলেই ত্রাণ নিতে পারেন না বা সাহায্য চাইতে পারেন না। তাদের কথা মনে করে যেন তাদের খোঁজ খবর নেওয়া হয় তাদের কোনো সহায়তার প্রয়োজন আছে কিনা সেটা যেন জানতে চাওয়া হয়। তাদের কিছু লাগবে কি না। নিজেদের জায়গা থেকে যেন এটা করা হয়। তাদের জন্য সাহায্য নয়, তাদের জন্য উপহার হিসেবে যেন এটা পৌঁছায়। আর যে কাউকেই সাহায্য দিক না কেন, সেটা যেন ফলাও করে ছবি তোলে প্রচার না করে। যাতে কারও আত্মসম্মানে আঘাত না হয়, সেটা যেন খেয়াল রাখা হয়। এটা মানুষজনকে আসলে ছোট করা হয়। শুধুমাত্র যিনি দেবেন আর যিনি নেবেন তারাই জানবে, আর আল্লাহ জানবে।
