ভৈরবে লকডাউন মানছে না কেউ

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৩৬ পিএম

 

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কেউ মানছেন না লকডাউন। অযথা বের হচ্ছেন বাইরে। ভিড় করছেন পথে পথে। যারা বাইরে বের হচ্ছেন, তাদের অনেকেই পরছেন না নিরাপত্তা মাস্ক, গ্লাভস। ফলে করোনাভাইরাস সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ।

এদিকে গত শুক্রবার ভৈরব থানায় কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থানার সব পুলিশ (৬৪ জন) ও ৫ চিকিৎসককে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে ভৈরব উপজেলাকে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্ধ ঘোষণার পর থেকে অনেকটাই ঢিলেঢালা ভাব দেখাচ্ছেন প্রশাসন। লকডউন ঘোষণার পর থেকে পথে-ঘাটে পুলিশি টহলসহ বন্ধ রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম। ফলে মানুষের মাঝে সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব ভাঙার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি লুবনা ফারজানা জানান, অনেক তো চেষ্টা করা হয়েছে। এখানকার মানুষকে কোনোভাবেই কথা শুনানো যাচ্ছে না। এখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাই নির্দেশনা এসেছে, আমাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য। আগের সকল পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে থাকায় নতুনদের নিয়ে কাজ করতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। তারা পথ-ঘাট চেনেন না। তাদের চিনিয়ে কাজ করাতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।

প্রশাসনের কোনো ঢিলেঢালা নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, আজকেও তিনি ভৈরব বাজার এলাকায় টহলে ছিলেন। 

 

এদিকে ভৈরবে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৪ জন কোয়ারেন্টিনের আওতায় এসেছেন। তাদের সবাইকে পাঠানো হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে। সোমবার কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে ৭ জনের। এরা ৫ জন প্রাতিষ্ঠানিক এবং ২ জন ছিলেন হোম কোয়ারেন্টিনে। বর্তমানে ভৈরবে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৯২ জন। এদের মধ্যে ৮৭ জন বাসায় আর ৫ জন আছেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। 

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো প্রতিবেদনে তাদের দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। 

সোমবার এইসব তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. বুলবুল আহমেদ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত