মানবদেহে করোনার টিকা প্রয়োগের অনুমোদন চীনের

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২০, ০২:২৮ এএম

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) এর দুইটি টিকা মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে চীন।

সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের বরাতে খবরে বলা হয়, বেইজিংয়ের সিনোভেক বায়োটেক ও উহানের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রডাক্টস পরীক্ষামূলক টিকা দু্ইটির উন্নয়ন ঘটিয়েছে। 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ২০ হাজার ৯১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৬৫ হাজারের মতো আক্রান্ত।

চীনে বিদেশ ফেরৎ ব্যক্তিদের কারণে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের শিকার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বেইজিং করোনার টিকা মানবদেহে প্রয়োগের অনুমতি দিল।

এর আগে গত মার্চে বেইজিং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য একটি টিকার অনুমোদন দিয়েছিল। ওই টিকা তৈরি করে দেশটির মিলিটারি একাডেমি পরিচালিত মিলিটারি মেডিকেল সায়েন্সেস ও জৈবপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেনসিনো বায়ো।

এ হিসেবে বলা যায়, চীন ভিন্ন ভিন্ন তিনটি টিকা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পরীক্ষণ করছে। দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশন এ-ও বলে রাখছে, যদি এই টিকার কার্যকারিতা সফল হয় তাহলে তারা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক উৎপাদনে যেতে পারবে।

মানবশরীরে পরীক্ষণের অনুমতির বিষয়টিকে সাহসী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন হংকং ইউনিভার্সিটির প্যাথলজির ক্লিনিক্যাল প্রফেসর জন নিকলস। তিনি বলেন, হুট করেই টিকা মানব শরীরে দেওয়া যায় না। প্রথমে ছোট প্রাণী, এরপর পর্যায় ক্রমে মানব শরীরে প্রয়োগ করতে হয়। তবে চীনের এই সিদ্ধান্তটি খুবই সাহসী। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধদের শরীরের প্রয়োগের মধ্য দিয়ে খুব সহজে বোঝা যাবে এই উদ্ভাবন কতটা কার্যকর।

পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য প্রথম দফায় ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন করা হয়েছে। এর পরের স্তরের জন্য আরেকটি দল গঠন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ডব্লিউএইচও পরে যার নাম দেয় কভিড-১৯। দেশটিতে মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৪৫ মানুষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত