কোটালীপাড়ায় ভিন্নধর্মী বর্ষবরণ কর্মকর্তাদের

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০১:৫৫ এএম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি বিভিণ্ণ দপ্তরের কর্মকর্তারা ভিণ্ণভাবে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছেন। তবে তাদের এই বর্ষবরণে ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিকতা। কোনো কর্মকর্তাই পড়েননি নতুন পোশাক।

এসব কর্মকর্তা তাদের বেতনের টাকা দিয়ে ২শতাধিক নিরণ্ণ মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। যতদিন করোনা থাকবে ততদিন এ সব কর্মকর্তা তাদের বেতনের একটি অংশ নিরনড়ব মানুষের জন্য ব্যয় করবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান। তবে ভবিষ্যতে তারা ভিন ভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবেন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। এ ক্ষেত্রে টিম কোটালীপাড়া নামে একটি ফেইসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। চালু করা হয়েছে একটি মোবাইল সেবা হটলাইন। নিরনড়ব মানুষের পক্ষ থেকে এই ফেসবুক পেইজ বা মোবাইল হটলাইনে যোগাযোগ করলেই তাদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের এই উদ্যোগকে উপজেলার বিভিণ্ণ জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বাগত জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে উপজেলা সদরের এক বাসিন্দা বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। করোনাভাইরাসের কারণে বিগত ১মাস ধরে আমার ব্যবসা বন্ধ। বর্তমানে সংসার চালানো আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে পয়লা বৈশাখের দিনে আমার বাড়িতে তিনি গোপনে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

উপজেলার কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল বলেন, আমাদের উপজেলার সরকারি বিভিনড়ব দপ্তরের কর্মকর্তগণ যে উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে তা অত্যন্ত প্রশাংসার দাবি রাখে। এসব কর্মকর্তাগণ তাদের রুটিন মাফিক দাপ্তরিক কাজের বাইরে এসে এই দুর্যোগে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা তাদের বেতন দিয়ে নিরনড়ব মানুষের মুখে অনড়ব তুলে দিচ্ছেন। এটা কোটালীপাড়ায় একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা টিম কোটালীপাড়া আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে জাতির এই দু:সময়ে মানুষের পাশে থাকতে চাই। যেসব পরিবার দেখতে স্বচ্ছল কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অস্বচ্ছল এবং সংকোচে কাউকে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারে না আমরা এসব মানুষকে নিরবে সেবা দিতে চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত