করোনা: ভারতে সরকারি হাসপাতালে হিন্দু-মুসলিম আলাদা ওয়ার্ড

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০২:৩১ পিএম

গুজরাটের সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় বর্ণবাদ উস্কে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে হিন্দু-মুসলিম ভাগ করে আলাদা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশেই নাকি এমনটা করা হচ্ছে।

গত কয়েকদিনে একাধিক ভারতীয় মিডিয়া এই নিয়ে খবর প্রকাশ করে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেছে আল জাজিরাও।

বুধবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে আহমেদাবাদ সিভিল হসপিটালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. গুনভান্ট এইচ রাঠোর বলেন, “সাধারণত পুরুষ ও নারীর রোগীর জন্য ওয়ার্ড আলাদা করা হয়। কিন্তু আমরা এখানে হিন্দু ও মুসলিমের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করেছি। এটা সরকারি নির্দেশ। তাদেরই জিজ্ঞাসা করুন এই বিষয়ে।”

গুজরাটের ক্ষমতায় আছে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যারা কেন্দ্রেও ক্ষমতায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই রাজ্যে টানা ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

আল জাজিরা এই বিষয়ে জানতে রাজ্য সরকারের প্রধান স্বাস্থ্যসচিব জয়ন্তী রবির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফোন ধরে তার ব্যক্তিগত সহকারী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সঞ্জয় সোলাঙ্কির সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলে। কিন্তু সোলাঙ্কি জানান, এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সঠিক ব্যক্তি সুপারিনটেনডেন্ট রাঠোর। অন্যদিকে রাঠোর আল জাজিরার ফোনের উত্তর দেননি।

এই ধরনের কিছু ঘটেনি বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানান গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিতিন প্যাটেল। বলেন, “রোগীদের যতটা সম্ভব ভালো চিকিৎসার জন্য যা প্রয়োজন তা-ই করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে রাজ্যটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পৃথক ওয়ার্ডের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করে। সেখানে বলা হয়, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, রোগের লক্ষণ, বয়স ও চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রকাশিত খবর ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

এর আগে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে রোগীর অভিজ্ঞতার বয়ান দিয়ে জানানো হয়, কীভাবে তাদের ওয়ার্ড বদল করা হয় ও একই ওয়ার্ডে সবাই ছিলেন একই ধর্মের। রোগীর প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালের কর্মকর্তা জানান, দুই সম্প্রদায়ের স্বস্তির জন্য এটা করা হচ্ছে।

এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দু জানায়, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে থাকতে চান না সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। এই নিয়ে কিছু অভিযোগ আসার পর সাময়িকভাবে আলাদা ওয়ার্ডের সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে আহমেদাবাদ ভিত্তিক সমাজতাত্তিক ঘনশ্যাম শাহ বলেন, এটা নিশ্চিত বর্ণবাদ। আর ঘটনাটি গুজরাটে হওয়ায় তিনি একদম বিস্মিত হননি। পাশাপাশি উল্লেখ করেন, মুসলিমরা ভাইরাস ছড়াচ্ছে এমন প্রপাগান্ডা ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম বিবাদ অনেকদিনের। ২০০২ সালে এখানে এক সহিংসতায় ২০০০ হাজারের মতো মুসলিম নিহত হয়, কয়েক ডজন নারী ধর্ষণের শিকার হন ও বাস্তচ্যুত হন কয়েক হাজার। একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডে ৬০ হিন্দু তীর্থ যাত্রী মারা যাওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত