বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এরইমধ্যে মারা গেছে এক লাখ পয়তাল্লিশ হাজারেরও বেশি লোক। বাংলাদেশেও এই রোগে মারা গেছেন ৭৫ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৩৮জন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের মধ্যে পুরুষের হার নারীদের তুলনায় বেশি বলে সংক্রমণের শুরুতে খবর পাওয়া যাচ্ছিল।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি চিনের গবেষকরা, সে দেশের হুবেই, উহান ও সমগ্র চিনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন এই সংক্রমণে পুরুষের মৃত্যুহার ২.৮ শতাংশ ও নারীদের মৃত্যুহার ১.৭ শতাংশ।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে যখন সারা বিশ্বে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে, তখনও যেসব দেশ মৃত্যুর লিঙ্গভিত্তিক সংখ্যা প্রকাশ করেছে, যথা ইতালি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্স, সেখানেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু এরকমটা হচ্ছে কেন? গবেষকরা এর কোনও উত্তর এখনও পর্যন্ত খুঁজে পাননি। কিন্তু বেশ কিছু বিষয় এতে উঠে এসেছে।
চিনের মৃত্যুহার দেখে মনে করা হচ্ছিল সে দেশে পুরুষরা বেশি ধূমপায়ী বলে তাদের ঝুঁকি বেশি। ফলে তাদের ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত। এই অনুমানের পিছনে সমর্থন জুগিয়েছিল চিনের একটি বিজ্ঞান গবেষণাও।
বলা হয়েছে, ধূমপায়ীরা বারবার মুখে হাত দেন এবং তারা একে অন্যের সঙ্গে সিগারেট ভাগ করে নেন।
আরেকটি বিষয় হল সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যাপারে নারীরা পুরুষদের থেকে বেশি সচেতন এবং তারা জনস্বাস্থ্য উপদেশাবলী বেশি মেনে চলেন। কিন্তু সমস্ত ধরণের জনবাসী ও সংস্কৃতির মধ্যে এরকমটা ঘটার সম্ভাবনা অবৈজ্ঞানিকও বটে।
জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রফেসর সাব্রা ক্লেইন দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেছেন তিনি মনে করেন না, ধূমপান এর মূল কারণ। তিনি মনে করেন এর কোনও অন্য একটা সার্বজনীন কারণ রয়েছে।
প্রফেসর ক্লেইন সহ অন্যদের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে হেপাটাইটিস সি থেকে এইচআইভি অবধি নানা ধরনের সংক্রমণে পুরুষদের অ্যান্টিভাইরাল প্রতিরোধক্ষমতা তুলনায় কম। তবে কোভিড ১৯ নিয়ে পৃথক গবেষণা এখনও বাকি।
দ্য গার্ডিয়ানকে ক্লেইন জানিয়েছেন, ভাইরাস দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের অন্তর্গত প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্ভবত যথাযথ কার্যকর হয়ে ওঠে না। তাই এমনটা ঘটে থাকতে পারে।
