করোনাভাইরাস নিয়ে এত দিন স্বস্তিতে থাকলেও চারজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর খানিকটা দুশ্চিন্তা বেড়েছে রাজশাহীর মানুষের। তবে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে বাইরে থেকে আসা মানুষের কারণে। প্রধানত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরত আসা শ্রমিকরাই এখন রাজশাহীর মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রাজশাহীতে করোনা আক্রান্ত চারজনের একজন ঢাকা থেকে আসা, বাকি তিনজন নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে করোনা শনাক্ত হন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাইরে থেকে আসা মানুষের ওপর নজরদারি বেড়েছে। প্রশাসনের তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মানুষদের বিষয়ে। এদিকে, সাধারণ মানুষও বাইরের জেলা থেকে আসা মানুষদের বিষয়ে এখন বাড়তি সচেতন।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক ফেইসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে আগতরা হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকলে নিকটবর্তী থানা ও ইউএনও-ডিসি অফিসের কন্ট্রোল রুমে ০১৬১৯৩০২৮৩০ অবহিত করুন।’
রাজশাহীর করোনা চিকিৎসা সমন্বয় কমিটির প্রধান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, এরই মধ্যে ঢাকা ও নারায়ণঞ্জ থেকে বেশ কিছু মানুষ রাজশাহী অঞ্চলে চলে এসেছেন। রাজশাহীর করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এসব মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা খুবই জরুরি।
কিছুদিন ধরেই রাজশাহী জেলায় চলছিল অঘোষিত লকডাউন। গণপরিবহন বন্ধ, রাস্তায় লোকজনের চলাচলও ছিল সীমিত। কিন্তু বাগমারা ও পুঠিয়ায় দুজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরই গত মঙ্গলবার পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজশাহী জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার লকডাউনের ঘোষণা দেওয়ার পর ওই দিন বিকেলে আরও একজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। গত বৃহস্পতিবার জেলার মোহনপুরে আরও এক করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর আগে ৬ এপ্রিল করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভার পর থেকেই রাজশাহীতে অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়। রাজশাহী জেলায় প্রবেশ ও বের হওয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয় সেদিন থেকেই। আগে থেকে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও নানা কৌশলে রাজশাহী আসছিল মানুষ।
এরই মধ্যে ঢাকা থেকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় আসা এক যুবকের করোনা শনাক্ত হয় গত রবিবার। আর নারায়ণগঞ্জ থেকে জেলার বাগমারায় আসা আরেক যুবকের করোনা শনাক্ত হয় সোমবার। মঙ্গলবার পুঠিয়ায় এক নারীর করোনা ধরা পড়ে। তিনিও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা। বৃহস্পতিবার মোহনপুরের এক নারী করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তিনি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে এলাকায় ফিরেছেন।
চিকিৎসকরাও বলছেন, রাজশাহীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ঢাকা ও নারায়ণঞ্জ থেকে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া খুব জরুরি।
রাজশাহীর করোনা চিকিৎসা সমন্বয় কমিটির প্রধান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, এসব মানুষকে আইসোলেশনে রাখা খুবই জরুরি।
