মাদারীপুরের রাজৈরে খুনের মামলায় জামিন পাওয়া আসামিদের বাড়িঘরে অতর্কিত হামলায় আহত প্রসেন বসু (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার শ্যামলী প্রমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
বুধবার বিকেলে উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মৃধাবাড়ি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই মামলার আসামি নিহত প্রসেন বসু একই গ্রামের সতিশ বসুর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত বছরের ২৫ জানুয়ারি উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মৃধাবাড়ি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে সাবেক মেম্বর যুধিষ্টির বসু খুন হন।
এ খুনের মামলার আসামিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রায় এক বছর পূর্বে জামিন পেয়েও বাদী পক্ষের হুমকির মুখে বাড়িতে আসতে না পেরে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে থাকছিলেন।
করোনাভাইরাসের প্রভাবের কারণে বুধবার বাড়িতে আসলে নিরোধ বসুর নেতৃত্বে বাদী পক্ষের লোকজন আসামি প্রসেন বসুদের উপর পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা করে। এ হামলায় প্রসেন বসু (৩২), মিহির বসু (২২), সতিশ বসু (৬৫) ও সজু বসু (২০) মারাত্মক আহত হয়।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে প্রসেন বসু (৩২) ও মিহির বসুর (২২) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এখানে প্রসেন বসুর অবস্থা আরো অবনতি হলে ঢাকার শ্যামলী প্রমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে প্রসেন বসুর মৃত্যু হয়। আহত মিহির বসুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে নিরোধ বসুসহ ১৬জন নামীয় ও আরো অজ্ঞাত৭/৮জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে।
গত বছর মেম্বর যুধিষ্টির বসু খুনের মামলায় বর্তমানে খুন হওয়া প্রসেন বসুসহ ২৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছিল।
এ মামলায় নিহত প্রসেনসহ ২৬জন জামিনে থেকেও দীর্ঘদিন প্রতিপক্ষের ভয়ে নিজ গৃহে আসতে পারছিলেন না।
নিরোধ বসু বলেন, আমি থাকি এক বাড়ি আর মারামারি হয়েছে অন্য বাড়ি আমি শুনে আসলে দেখি তেমন কিছু হয় নাই। আর যে মারা গেছে সে ওদের লাঠির আঘাতেই আহত হয়ে মারা গেছে। ওরা যখন বাড়ি এসেছে তখন লাঠিসোঁঠা নিয়ে এসেছিল।
সতিশ বসু জানান, এর আগে মিথ্যা মামলায় আমরা জামিনে এসে এক বছর যাবৎ বাড়ি যেতে পারি নাই। গেলেই মারধর করে। ঐদিন যখন আমার ছেলেসহ কয়েকজন বাড়িতে যায় তখনই নিরোধ বসুসহ কয়েকজন মিলে আমার ছেলেকে গুরুতর আহত করে। ওদের কারণে আজ আমার ছেলে মারা গেছে আমি ওদের ফাঁসি চাই।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার শওকত জাহান জানান, বর্তমানে মারামারি মামলার সাথে শুধুমাত্র ৩০২ ধারা সংযোজন করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
