পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং স্বাস্থ্য নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে পারলে রোজার মাসের মধ্যে সীমিত আকারে কিছু গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা চালু করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, সামনে রোজা, আমরা সবাইকে একেবারে বন্ধ করে রাখতে পারব না। আমাদের কিছু কিছু জায়গা আস্তে আস্তে উন্মুক্ত করতেই হবে।
সোমবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনার সূত্রপাত করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কাজ করতে পারেন, যদি ইন্ডাস্ট্রি তারা খুলতেও চায় বা কাজ করতে চায়, সেখানে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে কীভাবে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো যেতে পারে… ।
তাদের সুরক্ষিত রেখে বা তাদের থাকার জায়গাগুলো... এখানে যদি কোনো ফাঁকা জায়গা থাকে… সেখানে যদি তাদের থাকার ব্যবস্থা করা যায়, যেখানে তারা সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে….. বা ইন্ডাস্ট্রিগুলো তাদের নিজস্ব জায়গা অনেকের আছে, সেখানেও তারা একটা ব্যবস্থা করতে পারে। সেভাবে যদি তারা করতে পারে, তাহলে কিছু কিছু ইন্ডাস্ট্রি তো চালু করতেই হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশেষ করে আমাদের ওষুধশিল্প, করোনাভাইরাসের জন্য অ্যাপ্রোন থেকে শুরু করে পিপিই, মাস্ক, হেড ক্যাপ, তারপরে সু ক্যাপ- এগুলো যারা তৈরি করছে, তাদের জন্য তো খোলা রাখতে হচ্ছে। এটা ওইভাবে আলোচনা করে, তারা কত পারসেন্ট আছে…।
শ্রমিক আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতবার যেমন হঠাৎ সুপারভাইজর দিয়ে শ্রমিকদের ডেকে নিয়ে আসল, আমি মনে করি যে এটা কোনোমতে ঠিক হয়নি। তাদের আসা যাওয়ায় যে কষ্টটা তারা পেয়েছে, কারণ তার পরের দিনই বলছে, চলে যাও। যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ, মাইলের পর মাইল হেঁটে, এই মেয়েরা পর্যন্ত তাদের গার্জিয়ানকে সাথে নিয়ে হেঁটে হেঁটে এসেছে। তো এভাবে যেন তাদের কোনোরকম কষ্টে পড়তে না হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, তাদেরকে আনতে হলে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আবার তাদের থাকার ব্যবস্থাও করতে হবে। তারা যেন সুরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারে… তাহলে তারা কারখানা চালু করতে পারবে। এ জিনিসটা বোধ হয় আপনাদের দেখা উচিত, আলোচনা করা উচিত এবং ওইভাবে রাখা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, যেহেতু গাজীপুরে দেখা দিচ্ছে রোগের প্রাদুর্ভাবটা, এখানে আমাদের চিন্তা করতে হবে যে এটা (পোশাক কারখানা) ২৪ বা ২৫ তারিখে চালু করা ঠিক হবে কি না।
সেখানে কী পরিমাণ রোগী আছে, বা পরীক্ষা করে কত জন শনাক্ত হয়েছে, সে বিষয়গুলি আগে জানতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ডব্লিউএইচওর যে নিয়ম… সে নিয়ম মেনে পরীক্ষা করতে হবে।
এটা বুঝে নিয়ে তারপর ইন্ডাস্ট্রি খোলার কথা, তারপর তাদের সুরক্ষার কথা… আমি বলব না যে একদম বন্ধ থাকুক, তাহলে সীমিত আকারে সে পরিমাণ শ্রমিক আসতে হবে এবং তা ওভাবে চালু করতে পারবে। এটা আমার মনে হয়, মালিকদের সঙ্গে কথা বলে তারপর আপনারা ঠিক করবেন।
পোশাক শ্রমিকদের বিষয়ে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এটা ব্যবস্থা নেব। গার্মেন্টসের কিছু নেতাদের সাথে আমি এরপরেই বসব। তাদের সাথে কথা বলব এ বিষয়ে।
