করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তারা। এরপর বিচলিত না হয়ে নিজেদের মনোবল ধরে রেখে ঘরেই নিয়েছেন চিকিৎসা। এখন তারা সুস্থ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপউপাচার্য অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের দুই ছাত্র জানালেন তাদের সেই অভিজ্ঞতার কথা।
অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সিকদার জানান, তিনি আক্রান্ত হন এক রোগীর সংস্পর্শ থেকে। ওই রোগী নিজের উপসর্গের কথা গোপন রেখে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন।
শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, আমার কিন্তু কোনো উপসর্গ ছিল না। তারপরও আমি পরীক্ষা করালাম এবং বিকেলে জানান হলো আমারও করোনাভাইরাস পজিটিভ। তখন আমি নিজের বাসায় একেবারে কন্টাক্টলেস হয়ে গেলাম।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে তেমন কোনো উপসর্গ ছিল না। এরপর একদিন সামান্য কাশি, সর্দি, সামান্য মাথাব্যথা। তবে তাপমাত্রা তত বেশি ছিল না। সামান্য শরীর ব্যথা হয়েছিল। সেটা খুবই কম। আমার মেয়ের একটু জ্বর হয়েছিল, পাতলা পায়খানা হয়েছিল।
তবে কীভাবে থাকবেন, কোথায় চিকিৎসা নেবেন, সে বিষয়ে প্রথমে নিজেও দ্বিধায় ছিলেন বলে জানালেন এই চিকিৎসক।
তিনি বলেন, আসলে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক তো সারা দুনিয়ায় আছে। আমি যখন আক্রান্ত হলাম, টেস্ট করে যখন আমি নিজেই পজিটিভ দেখলাম, তখন আমি আসলেই একটু চিন্তিত হয়ে গেলাম যে আমি হাসপাতালে যাব না বাসায় থাকব।
তবে যেহেতু বড় কোনো শারীরিক সমস্যা তার ছিল না তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসায় থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন।
শহীদুল্লাহ সিকদার স্ত্রী এবং ২০ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে থাকেন ঢাকার গ্রিন রোডের বাসায়।
মেয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও এই সময়ে স্ত্রী পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন বলে জানান বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের সাবেক এই উপউপাচার্য।
তিনি বলেন, আমি, আমার স্ত্রী ও মেয়ে আলাদা আলাদা ঘরে থেকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার, বিশেষ করে স্যুপ, জুস আর গরম পানি পান করেছি সবসময়; আদা চা খেয়েছি। সবসময় চেষ্টা করেছি ভিটামিন সি ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খেতে। পেয়ারা, কমলা, লেবু, মাল্টা এগুলো খেয়েছি প্রচুর পরিমাণে। তার সঙ্গে কালোজিরা এবং মধু সকাল-বিকাল খেয়েছি। প্রয়োজনে কিছু ওষুধও সেবন করেছি।
অসুস্থতার দিনগুলোতে অন্য সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ পানি পান করেছেন জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, সব সময় গরম পানি পান করেছি। আর সেটা পরিবারের সবাই। বেশি বেশি পানি পান জরুরি, কারণ টক্সিক পানির সঙ্গে বা প্রসাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে।
শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, অসুস্থ হলে বিশ্রাম নিতেই হয়। তাই বলে তিনি সবসময় শুয়ে থাকেননি। কিছু হালকা ব্যায়াম করেছেন, যাতে শরীর সচল থাকে।
এ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবারে জোর দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণভাবে আমি সপ্তাহে একটা করে ডিম খেতাম। কিন্তু কোভিড-১৯ পজিটিভ আসার পর সপ্তাহে চারটা করে ডিম খেয়েছি। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুবই জরুরি, কারণ রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারলে মানুষের সংক্রমণের শারীরিক ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়। তাতে দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
আন্তর্জাতিকভাবে বলা হচ্ছে কোভিড-১৯ হলে সুস্থ হতে দুই থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। শহীদুল্লাহ সিকদার জানান, তার ও তার মেয়ের নমুনা পরীক্ষায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই করোনাভাইরাস নেগেটিভ এসেছে।
এ ছাড়া রাজধানী মানিকদী এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্র সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, আমার করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বাসাতেই আইসোলেশনে থাকি। জ্বর সারতে ছয়দিন লেগেছিল। এর প্রতিষেধক হিসেবে আমি শুধু নাপা (প্যারাসিটামল) খেয়েছিলাম। তবে জ্বর বেশি থাকলে সাপোজিটর ব্যবহার করেছি।
তিনি বলেন, জ্বর সেরে ওঠার পর কাশিটা আরও কয়েক দিন ছিল। এজন্য ‘এলাট্রল’ খেয়েছিলাম। তবে সবসময় গরম পানি পান, আদা-রসুন খুব উপকারে এসেছে। আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আমি কখনও ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্র সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফেইসবুকে ভিডিও বার্তায় বলেন, এ সময়ে আমি ভিটামিন সি খেয়েছি, গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করেছি এবং স্যাভলন পানি দিয়ে গোসল করতাম। নিয়মিত ব্যায়াম করতাম এবং এক-দুই ঘণ্টা পরপর শুধু গরম পানি খেতাম।
