প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা যাতে না ছড়িয়ে পড়ে, তার জন্য ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে লকডাউন। শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া নিষেধ। কিন্তু এই জরুরি প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে অনেকে বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন আযাচিতভাবে। এই নিয়েই তৈরি হয়েছে লকডাউনে শর্টফিল্ম ‘আগামী পৃথিবী’। তবে এখানে যে শুধু একটি গল্প দেখানো হয়েছে, তা নয়। ভিডিওর প্রায় অর্ধেক জুড়েই রয়েছে অঙ্কুশ, অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়, অলকানন্দা রায়, সুব্রত গুহরায়-সহ অনেকের সতর্কবার্তা।
আট মিনিটের এই ভিডিওই প্রথম সাড়ে তিন মিনিট একটি গল্প দেখানো হয়েছে। সেটি পরিচালনা করেছেন রতন কুমার পাণ্ডা। অভিনয় করেছেন কৌস্তভ ঘোষ, পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌরব চক্রবর্তী ও জ্যামি বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিডিওতে বারবার বলা হয়েছে ঘর থেকে না বের হওয়ার কথা। করোনা ভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে অসংখ্য মানুষের প্রাণ নিয়েছে। কিন্তু এখনো সচেতন নয় মানুষ। কোনো না কোনো বাহানা বানিয়ে বাড়ির বাইরে পা রাখতেই হবে তাদের। কখনো টাকা তোলার নাম করে, কখনো আড্ডা মারতে যাওয়ার নাম করে, কখনো আবার বাড়ির ছেলের জন্মদিনে পুজো দিতে যাওয়ার বাহানায় বের হচ্ছে কেউ কেউ।
লকডাউন না মেনে এভাবে বাড়ি থেকে বের হওয়া নিয়ে ফের সচেতন করলেন সেলিব্রিটিরা। অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা, অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়, সুব্রত গুহরায়, সৌরভ চক্রবর্তী, অভিনেত্রী অলকানন্দা রায়, মধুমিতা চক্রবর্তী, পরিচালক রাজা চন্দ অনেকেই ভিডিওর মাধ্যমে জনগণকে বাড়ি থেকে না বের হওয়ার আবেদন করেছেন। চিকিৎসক, নার্স ও পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করে তাদের সহযোগিতা করার কথাও বলেছেন তারা।
বাড়ি থেকে না বের হওয়ার পাশাপাশি মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করার কথাও বলেন তারা। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে বলেন। আর অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখলে গুজব না ছড়িয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার আবেদন করেন তারা। এ ছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধও করেন। এই ‘সামাজিক দূরত্ব মানে কিন্তু ধর্ম বা জাতিগত দূরত্ব নয়, অবস্থানগত দূরত্ব’, স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী অলকানন্দা রায়। অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় জানান, দুস্থ মানুষদের অবস্থা এই সময় বেশ খারাপ। কাজ নেই। ফলে তাদেরও সাধ্যমতো সাহায্যের কথা বলেন তিনি। অঙ্কুশ হাজরা বলেন, কিছু মানুষকে বেরোতে হচ্ছে জরুরি প্রয়োজনে। বাকিদের বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেন তিনি। ‘আমরা কয়েকটা দিন একটু ধৈর্য ধরে চলি, তাহলে করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে পারব।’ জানান অভিনেতা। সবশেষে অলকানন্দা রায় সবার কাছে করজোড়ে বলেন, ‘আমাদের দেখা হোক সুস্থ শহরে….।’
