টমেটো কিনতে শরীয়তপুর থেকে পঞ্চগড়ে বেপারি আনল পুলিশ

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৩৮ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এর ফলে টমেটো বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা। তাই টমেটো উৎপাদনের ভরা মৌসুমে গভীর সংকটে পড়েছেন এই জেলার কয়েক হাজার টমেটোচাষি। এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পঞ্চগড়ের টমেটোচাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা পুলিশ।

চাষিরা জানান, গাছ থেকে টমেটো ছেঁড়ার সময় চলে যাচ্ছে। বিক্রি করতে না পারায় ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হবে তাদের। শুধু টমেটো নয়, বেগুনসহ অন্যান্য শাকসবজি পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। আমনের দাম না পেয়ে নানান শাকসবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছিলেন কৃষকরা। কিন্তু দাম না পেলে কৃষকের মেরুদ- ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা।

তবে পঞ্চগড়ের টমেটোচাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার উদ্যোগ নিয়ে শরীয়তপুর থেকে ৩৮ জন বেপারিকে পঞ্চগড়ে এনেছেন। তাদের বর্তমানে শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হলে বেপারিরা কৃষকের কাছ থেকে টমেটো কেনা শুরু করবেন। তারপর সেই টমেটো দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হবে।

জেলার টমেটোচাষিরা বলছেন, ক্ষেতে টমেটো পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে টমেটো বিক্রি করতে পারলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে। তা না হলে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, সম্প্রতি তিনি টমেটোচাষিদের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে বেপারিদের আনার উদ্যোগ নেন। শরীয়তপুর জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য জেলা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বেপারিদের মাইক্রোবাসে করে পঞ্চগড়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বেপারিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে তারা টমেটো কিনতে পারবেন।’ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় টমেটো নিয়ে যেতে যেন কোনো সমস্যা না হয় সে বিষয়টিও তদারকি করা হবে বলে জানান তিনি। জেলার কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পঞ্চগড় জেলায় মোট ৯৩০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। সদর উপজেলা ছাড়াও বরোদা, আটোয়ারী ও দেবীগঞ্জ উপজেলায়ও কিছু কিছু চাষি টমেটো চাষ করেছেন। এখানকার চাষিরা কেউ অন্যের জমি বর্গা নিয়ে, কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছেন। এই টমেটো সাধারণত ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দক্ষিণাঞ্চলে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হানিফ জানান, যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তাতে টমেটোচাষিরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত