গভীর রাতে প্রতিবেশী স্কুলছাত্রের হাতে কলেজছাত্র খুন, আহত ২ ভাই

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ০১:০১ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফলে স্কুলছাত্রের হাতে খুন হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্র রেদোয়ান সিকদার (১৯)। এ সময় গুরুতর আহত হয় তার অপর দুই ভাই।

শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রেদোয়ান উপজেলার কালীশুরী ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে নুরুল ইসলাম সিকদারের ছেলে।

আহতরা হলেন- নবম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ্ সিকদার ও মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ফয়সাল সিকদার (১২)।

হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ইমরান কালিশুরী এসএ ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র এবং একই গ্রামের আলম খানের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই ইমরনা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমরানের মা সাহিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত রেদোয়ানের ভাবি রেশমা বেগম (২৫) জানান, (শবে বরাতের দিনে ৯ এপ্রিল) বাড়ির একই উঠানে কম্বল রোদে দেয়াকে কেন্দ্র করে ইমরানের মা সাহিদা বেগমের (৩৫) সাথে তার কথা ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ইমরান ও রোদোয়ান এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

এর জের ধরে শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে ইমরান তাদের নির্মাণাধীন ঘরে ঢুকে কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়। দুই ছোট ভাই আব্দুল্লাহ্ ও ফয়সালকে নিয়ে যে কক্ষে রেদোয়ান ঘুমান সে কক্ষে প্রবেশ করে ধারলো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে ফয়সাল দরজা খুলে দিলে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে ডাক চিৎকার দিলে প্রতিবেশীসহ স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন হাওলাদার এগিয়ে আসেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় তিন ভাইকে ওই রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেদোয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য আব্দুল্লাহ্ ও ফয়সালকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রেদোয়ানের মৃত্যু হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ইমরানের মা সাহিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইমরানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত