মৃত্যু ভয়কে তোয়াক্কা না করেই কাজ করে যাচ্ছি: জায়েদ খান

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৪১ পিএম

করোনা দুর্যোগের শুরু থেকেই অসহায় শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।

কেমন আছেন?

এই তো ভালো আছি। এখন তো বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি। করোনায় শিল্পী সমিতির সদস্যদের নানা ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করতে হচ্ছে।

ত্রাণ কার্যক্রম কেমন চলছে…

ওয়াদা করেছিলাম রোজার আগে শিল্পী সমিতির তালিকাবদ্ধ সবাইকে উপহার সামগ্রী পাঠাব। আল্লাহর রহমতে সেটা পেরেছি। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে যে সমস্ত শিল্পী কাজ করতেন তাদের সবার বাসায় উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছি। রমজান শুরুর আগেই চাল ডাল ছোলা, চিনিসহ নিত্যপণ্য সবাইকে পৌঁছে দিয়েছি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষকে সহায়তা করতে পেরেছি।

যারা সাহায্য নিচ্ছেন তাদের বর্তমান অবস্থা কেমন? এই সহায়তায় কি তাদের চাহিদা মিটছে?

আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। যারা অসচ্ছল কেবল তাদেরই সহায়তা দিচ্ছি। সিনেমার অবস্থা আগে থেকেই খারাপ। আর এখন তো একেবারেই কাজ বন্ধ। যারা দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন তাদের অবস্থা আরও খারাপ। আমাদের সহায়তা পেয়ে তারা খুবই খুশি, তারা আপ্লুত। অনেকেই তো বলেছেনও যে, ‘এত দিন ধরে শিল্পী সমিতির সদস্য হিসেবে আছি। অথচ এ রকম সাহায্য সহযোগিতা এর আগে কোনো দিনই পাইনি।’ সবচেয়ে বড় বিষয়  হচ্ছে, আমরা সমিতির প্রত্যেকটা সদস্যের সঙ্গেই যোগযোগ করছি। একটা মেডিকেল টিম গঠন করেছি। ডাক্তাররা সর্বদা সদস্যদের টেলিফোনে স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছেন।

একজন শিল্পী গণমাধ্যমে অভিযোগ করে বলেছিলেন তিনি আপনাদের সহায়তা পাননি…

যিনি অভিযোগ করেছেন তাকে আমি এখন পর্যন্ত চিনি না। কারণ তিনি আমাদের সংগঠনের সদস্য নন। এমনকি সহযোগী সদস্যও নন। আমরা আমাদের সদস্যদের তালিকা নিয়েই কাজ করছি। আর যেহেতু উনাকে আমরা চিনি না ফলে ওনার সঙ্গে আমাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করায় বা কি করে সম্ভব! ওনার অভিযোগ আসলে ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমার মনে হয় ওই সংবাদটা উদ্দেশ্যমূলক ছিল। অনন্ত জলিল এবং আমাদের শিল্পী সমিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই সেই নিউজটি করানো হয়েছিল বলে মনে করি। আর ওনার যদি সহযোগিতার দরকার হতো তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। গণমাধ্যমের কাছে তিনি যেতেন না। এটা বিতর্ক তৈরি করার জন্যই উনি এমন অভিযোগ করেছেন। আমি এমন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

সহায়তা তহবিলে অর্থ কোথা থেকে আসছে…

আমরা সামর্থ্যবান শিল্পীরা মিলেই সহায়তা তহবিল গঠন করেছি। আমি দিয়েছি, মিশা ভাই দিয়েছেন, অনন্ত জলিল ভাই দিচ্ছেন সবচেয়ে বেশি সহায়তা করছেন ডিপজল ভাই। আমাদের সামর্থ্য অনুয়ায়ীই আমরা কাজ করছি। মাঝে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় আমাদের কিছু সহায়তা করেছেন। এ ছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও আমরা যোগাযোগ করেছি যাতে চলচ্চিত্র কর্মীদের জন্য অনুদান দেওয়া হয়। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি।

ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে গিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন না তো?

ভেতরে একটা ভয় তো কাজ করছেই, আমি যদি অসুস্থ হই, যদি করোনা আক্রান্ত হই। আমার মাধ্যমে যদি আমার পরিবারের কেউ যদি আক্রান্ত হয়। তারপরও মৃত্যুভয়কে তোয়াক্কা না করেই কাজ করে যাচ্ছি। আমি ছোটবেলা থেকেই সংগঠন করি এবং অপরের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। আমি শিল্পী সমিতির দায়িত্বই নিয়েছিলাম শিল্পীদের সেবা করব বলে। আমি আমৃত্যু মানুষের সেবা করতে চাই। আমৃত্যু শিল্পীদের পাশে থাকতে চাই। যখন দেখি আমাদের সহায়তা পেয়ে কেউ হাসছে তখন খুব শান্তি পাই, আবার যখন দেখি কেউ কাজ না করে শুধু আমাদের সমালোচনা করছে তখন খুব ক্লান্তি লাগে। মানসিকভাবে অস্থির লাগে। আবার কিছু কিংবদন্তি যেমন ফারুক ভাই, সোহেল রানা ভাই যখন প্রশংসা করে তখন খুব ভালো লাগে সব হতাশা কেটে যায়।

করোনা পরবর্তী সিনেমার অবস্থা নিয়ে কী ভাবছেন?

করোনার আগে থেকেই সিনেমার অবস্থা ভালো না। করোনা আরও খারাপ করে দিল সিনেমা অঙ্গনের পরিস্থিতি। এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনা ব্যতীত সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না। টাকা লগ্নিকারক ব্যবসায়ীদের যেহেতু ক্ষতি হচ্ছে সে কারণে সেই ক্ষতির প্রভাবটা এসে পড়বে শিল্পী পরিচালক, ক্যামেরাম্যান, কলাকুশলীসহ সবার উপরে। কবে এই পরিস্থিতির অবসান হবে সেটাও বলা যাচ্ছে না। শুধু প্রণোদনা নয়, টোটাল সিনেমার সিস্টেমকেই চেঞ্জ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত