করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি দপ্তর খোলা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও ফেনীতে বন্ধ রয়েছে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উদাসীনতায় এক মাসেরও বেশি সময় তালাবদ্ধ রয়েছে শহরের মহিপাল সংলগ্ন এ প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ২৪ এপ্রিল থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর সরকারি দপ্তরগুলো জনসমাগম এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু ব্যতিক্রম ফেনী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস। শহরের মহিপাল পেট্রল পাম্প সংলগ্ন মিয়াজী বাড়ী সড়কের কার্যালয়টি বন্ধ রাখা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ দপ্তরের সহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন। গ্রামের বাড়ি মিরসরাই উপজেলায় হলেও সপরিবারে থাকেন চট্টগ্রাম শহরে। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর তিনি চট্টগ্রামের বাসায় চলে যান।
ওই অফিসের হিসাবরক্ষক নুর হোসেন নোয়াখালীর গ্রামের বাড়ি আর জরিপ কর্মকর্তা আবদুল হামিদ রয়েছেন শহরের নাজির রোডের বাসায়। গত ১৮ এপ্রিল নিজাম উদ্দিন ফেনী এসে কিছুদিন অবস্থান করে ফের চট্টগ্রামে চলে যান।
জনশক্তি কার্যালয় বন্ধ রাখা ও অন্যত্র অবস্থানের বিষয়ে অস্বীকার করেন সহকারী পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন। তার দাবি, সুরক্ষার জন্যই তিনি পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন। মাঝে মাঝে অফিস খুলেছেন।
তবে হিসাবরক্ষক নুর হোসেন ও জরিপ কর্মকর্তা আবদুল হামিদ গত এক মাসের বেশি সময় জনশক্তি অফিস বন্ধ থাকার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় বন্ধ এমনকি কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে না থাকার বিষয়টি তিনি অবগত নন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আতাউর রহমান জানান, দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা ও কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
