কুমিল্লার দেবিদ্বারে নতুন ৫ করোনা রোগী শনাক্ত

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ০৮:০৮ পিএম

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় নতুন করে আরো পাঁচজন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে দুজন মা ও মেয়ে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে স্থাপিত আরটিপিসিআর ল্যাব থেকে রোববার দুপুরে পাওয়া তথ্যে ১৮টি নমুনার মধ্যে ৫টি পজেটিভ ও ১৩ টি নেগেটিভ পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত দেবীদ্বার উপজেলায় মোট পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে ২০ জন।

নতুন শনাক্তদের সবাই গত বৃহস্পতিবারে করোনায় মারা যাওয়া ‘শঙ্কর হোমিও হল’র স্বত্বাধিকারী ডাঃ সুকুমার চন্দ্র দে’র সংস্পর্শে ছিলেন। এর মধ্যে আছে ডা. সুকুমারের নাতি , ভাতিজার বউ , নাতনি, দোকান কর্মচারী এবং বাসার ভাড়াটিয়া সেলুন ব্যবসায়ী। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর।

এদিকে, সুজন চন্দ্র দাস চান্দিনা রোডের সমবায় মার্কেটের যে সেলুনে কাজ করতেন, সেটিতে লকডাউনের মধ্যেও সাঁটার ফেলে কাজ চলতো বলে জানা গেছে। এতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের আশঙ্কা করছেন অনেকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহাম্মদ কবীর জানান, ডা. সুকুমার চন্দ্র দে’র ফার্মেসী ও বাসা আগে থেকেই লকডাউন করা আছে। দেবিদ্বারের নবীয়াবাদ এলাকা থেকে সংগৃহীত আরও ১৮ জনের নমুনা আজকে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সর্বমোট ৯০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআর ও কুমিল্লা মেডিকেল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জনের নেগেটিভ ও ২০ জনের পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। মারা গেছে তিন জন। একজন আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছে, বাকী ১৬ জন নিজেদের বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কুমিল্লায় ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৮ জন, এই নিয়ে কুমিল্লায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে ৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। 

বরুড়া উপজেলায় আরও দুই জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। একজন পূর্বে আক্রান্ত এস আই বিকাশের পরিবারের এক সদস্য, আরেকজন সি এন জি চালক। এই নিয়ে বরুড়ার আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ জনে। লাকসামে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তি স্থানীয় স্বাস্থ্যবিভাগ কর্তৃক গঠিত ‘করোনা র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ এর সদস্য। এই নিয়ে লাকসামে আক্রান্ত সংখ্যা ১১ জনে দাড়িয়েছে। নতুন করে কেউ সুস্থ হয়নি। এই পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২২ জন।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, রবিবার পর্যন্ত কুমিল্লা থেকে মোট নমুনা পাঠানো হয়েছে ২ হাজার ৩৫ জনের এর মধ্যে মোট রিপোর্ট রিসিভ হয়েছে ১ হাজার ৮ শ ৯২ জন পজিটিভ  ৯২ জন। সুস্থ্য হয়েছেন ২২ জন, মৃত্যু হয়েছে মোট ৪ জনের।

জেলার ১৭টি উপজেলার ১৪টি তে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দেবিদ্বার- ২০জন, তিতাস ১১, লাকসাম-১১, চান্দিনা-৯, দাউদকান্দি-৯, বুড়িচং-৮, মুরাদনগর ৭, মনোহরগঞ্জে ৪, বরুড়া ৫, ব্রাহ্মণপাড়া ২, সদর দক্ষিণ ২, চৌদ্দগ্রাম ১, হোমনা ২ ও মেঘনা উপজেলায় ১ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত