ইউরোপে নতুন রোগীর সংখ্যায় রাশিয়ার রেকর্ড

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ০৪:২৭ এএম

ভরকেন্দ্র বদলাচ্ছে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯। গেল বছরের শেষ থেকে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে প্রাদুর্ভাব কমে গেলেও নতুন নতুন দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিড়িক পড়ে যায়।  মার্চে বাড়তে শুরু করে ইউরোপের দেশ ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে। এর মধ্যেই ভয়ংকর রূপ নেয় যুক্তরাষ্ট্রেও। টানা দুই মাস পরে ওইসব অঞ্চলে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করলেও রাশিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশে ভয়ংকর হতে শুরু করে করোনা। 

রাশিয়ায় ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে সংক্রমণের লেখচিত্র। আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া এখন বিশ্বে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। দেশটিতে গতকাল রবিবার এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। রাশিয়ার করোনাভাইরাস ক্রাইসিস সেন্টার বলছে, গতকাল দেশটিতে করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্ত হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৬৩৩ জন। সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এর ফলে ইউরোপের এই দেশটিতে এক দিনে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হলো। বিবিসি বলছে, এদের বেশিরভাগই রাজধানী মস্কোর তবে যেসব জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দুর্বল সেখানেও এই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। মস্কোতে প্রতিদিন ১৭০০ জনকে ভর্তি করা হচ্ছে হাসপাতালে।

এদিকে ব্রাজিল, পেরু, কানাডা, ইকুয়েডর, সৌদি আরব, ভারতসহ কয়েকটি দেশেও রোগী বাড়ার হার বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেনসহ আগে থেকেই ভয়াবহ অবস্থায় পড়া দেশগুলোর অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। 

ইউরোপের দেশ স্পেনে ১৮ মার্চের পর থেকে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সবচেয়ে কম সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে এক দিনে মারা গেছে ১৬৪ জন। গত ছয় সপ্তাহে এই প্রথম এত কম সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হলো। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, শনি ও রবিবারে কখনো কখনো এই সংখ্যা কম পাওয়া যায়। সরকার ইতিমধ্যে লকডাউন শিথিল করেছে। তবে সোমবার থেকে গণপরিবহনে চলাচলের সময় মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্য বলছে, বাংলাদেশ সময় গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্বে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ লাখ ৮ হাজার ৭৭৮ জন। মারা গেছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে  আক্রান্ত ও মৃত্যুতে তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫ জন। দেশটি মৃত্যুর তালিকায়ও শীর্ষে। সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৫৯৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৪৭  হাজার ১২২ জন। মারা গেছে ২৫ হাজার ২৬৪ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি আছে স্পেনের আগে। দেশটিতে মারা গেছে ২৮ হাজার ৭১০ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৩২৮ জনে।

ফ্রান্সে মারা গেছে ২৪ হাজার ৭৬০ জন। আক্রান্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৬ জন।

ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৯৬ জন। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৬ হাজার ৮১২ জন।

ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৮৭৭ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৩ জন।

যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ২৮ হাজার ১৩১ জন। আক্রান্ত ১ লাখ ৮২ হাজার ২৬০ জন।

এছাড়া আরও অনেক দেশেই রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে আর মারা গেছে পাঁচ শতাধিক মানুষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত