সীতাকুন্ডে নতুন ৩ জন আক্রান্ত, কারখানা লকডাউন

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ১২:১০ পিএম

সীতাকুন্ডে বুধবার নতুন করে আরও ৩ জন করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে একজন ব্র্যাক কর্মকর্তা, আরেকজন একটি কারখানার ফোরম্যান ও অন্যজন সবজি ব্যবসায়ী।

আক্রান্তের খবর নিশ্চিতের পর উপজেলা প্রশাসন একটি কারখানার ৩০০ জন কর্মচারী ও চার বাড়ির ৩৬ পরিবারের ১৫৩ জন সদস্যসহ লকডাউন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার আমিরাবাদে অবস্থিত ব্র্যাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উপজেলা ম্যানেজার ফারুক হোসেন (২৬) গত ২৯ এপ্রিল ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে আসেন।

বুধবার ফলাফল পাওয়া যায়। ফলাফলে করোনা পজিটিভ আসলে প্রশাসন ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আশপাশের ৩০ পরিবারের ১২০ জন সদস্যকে লকডাউন করেছে।

আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে নানা সময় দেখা হওয়ায় হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) নুর উদ্দিন রাশেদও।

তবে একই অফিসে কাজ করা তার এক সহকর্মী জানান, গত কয়দিনও তিনি অবাধে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এমনকি বুধবারও সীতাকুন্ড পৌরসদরের সর্ববৃহৎ কাচাঁবাজার ও মাছ বাজার থেকে কেনাকাটা করেছেন তিনি।

এছাড়া কুমিরার পিএইচপি কারখানার ফোরম্যান সেলিম (৫০) গত ১৫ দিন আগে থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে কারখানায় নিয়মিত ছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেকে) যান। সেখান থেকে ওষুধ দিয়ে বাড়িতে থাকতে বলা হয়।

১ মে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে আবারো চমেকে গেলে চিকিৎসক নমুনা সংগ্রহ করেন। গতকাল ফলাফল পজিটিভ আসে। এরপরই প্রশাসন রাত ১২টার দিকে এই কারখানায় কর্মরত ৩০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কারখানাটি লকডাউন করেন।

একইদিন মো. বেলাল (৫০) নামের সলিমপুর ফকিরহাটের অপর একজন সবজি বিক্রেতার করোনা শনাক্ত হয়। ১ মে গায়ে জ্বর দেখা দেয়। দুইদিনে জ্বর না কমলে বিআইটিআইডিতে করোনার নমুনা দেন তিনি। উক্ত ব্যক্তির জ্বর ছাড়া অন্য কোনো উপসর্গ ছিল না। তিনি নিয়মিত সবজির দোকান করার কারণে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ৩৩ জন সদস্যসহ আশপাশের ৬ পরিবার লকডাউন করেছে প্রশাসন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত