বাজারে কালীপুরের সুস্বাদু লিচু, ভালো ফলনে খুশি চাষিরা

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ০১:১৮ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে উর্বর একটি উপজেলা। এখানে বারো মাসই ফলে নানা ধরনের শাকসবজি ও ফলমুল। ফলে এখানকার চাষিরা সারা বছরই ব্যস্ত থাকে ক্ষেত-খামারে। বর্তমানে সবজির পুরো মৌসুম চলমান এর পাশাপাশি বর্তমানে বাজারে আসতে শুরু করেছে কালীপুরের সুস্বাদু লিচু।

বাঁশখালীতে এবার প্রায় ৭শত হেক্টর জমিকে লিচু হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়

তবে ঘরোয়া ও ব্যক্তি বিশেষ এর চাষ করাসহ মিলে আরো বাড়তে পারে বলে জানান তারা।

এদিকে বাজারে আগাম লিচু আনতে পারায় চাষিরা অনেকটা খুশি হলেও ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কায়ও রয়েছেন তারা। তবে আর সপ্তাহখানেক যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে তাদের শ্রমের মূল্য অবশ্যই পাবেন বলে জানান কালীপুরের লিচু চাষি মোজাম্মেল চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমি বিগত ১০/১২ বছর ধরে ব্যবসায়িকভাবে লিচু চাষ করে আসছি। আমার নিজের বাগানসহ কয়েকটি বাগান লিজ নেওয়া আছে। এখন যেভাবে পাকতে শুরু করেছে এক সপ্তাহ সময় ফেলে সব বাজারে তোলা সম্ভব হবে।

‘আমার বাগানে বর্তমানে যে লিচু আছে তা যদি ঠিকমত বিক্রি করতে পারি তাহলে ২০/২২ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারব । তবে সে গুলোর পিছনে আমার প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মত বিনিয়োগ করেছি আমি।’

এদিকে লিচু বর্তমানে ২০০-২৫০ টাকা বিত্রিু হচ্ছে প্রতিশত লিচু। কালীপুরের লিচু আকারে ছোট হলেও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তাতে কোনো ধরনের বিষাক্ত দেওয়া থাকে না। ফলে যে কারো কাছে এ লিচুর কদর একটু বেশি। কালপিুর ছাড়া ও বাঁশখালীর জলদী, সাধনপুর, পুকুরিয়া, বৈলছড়ি, শীলকুপ, চাম্বল, পুঁইছড়ির পাহাড়ি এলাকায় লিচুর ভালো ফলন এবং চাষ হয়ে থাকে।

কালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আ.ন.ম. শাহাদত আলম বলেন যুগ যুগ ধরে আমার এলাকার চাষিরা লিচু চাষ করে আসছে। বাঁশখালীর সবচেয়ে বেশি ফলন ও চাষ হয় কালীপুর এলাকায়। প্রতিবছর এ এলাকার চাষিরা প্রায় কোটি টাকার লিচু বিক্রি করে থাকে।

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সালেক বলেন, বাঁশখালীতে প্রায় ৭শত হেক্টর জায়গাজুড়ে লিচু চাষ হয়েছে। পুষ্টি গুণের দিক দিয়ে এখানকার লিচুগুলো বেশ ভালো।

তাছাড়া চাষিরা অনেক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ভালো জাতের লিচু চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছে। আশা রাখি তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্য পাবে বিক্রি করতে পারলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত