পর্যটকশূন্য লাউয়াছড়ায় আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্যপ্রাণী

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ০১:০৯ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কয়দিন আগেও হাজারো পর্যটকের আগমণে, পর্যটকদের ব্যবহৃত যানবাহনের আগমণ ও কমবয়সী পর্যটকদলের হৈ হুল্লোড়ে বনের শান্ত নিবিড় পরিবেশ হারিয়ে ফেলেছিল। পর্যটকদের পদভারে এ বনের বন্যপ্রাণীর দেখাও অনেকটা মেলত না। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনায় সারাদেশের মতো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানেও পর্যটক প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পর্যটক শূণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এখন তার আগের পরিবেশে ফিরে এসেছে। ফলে মনের আনন্দে বন্যপ্রাণী এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে উদ্যানের ভেতরের সমতলে ও গাছ থেকে গাছের ডালে।

এ বনে বিরল প্রজাতির উল্লুক, চশমাপরা বানর, লজ্জাবতী বানর, বনরুই, মেছো বাঘ, মায়া হরিণ, বিভিন্ন জাতের সাপ ও নানা জাতের পাখির অভয়াশ্রম। বিরল প্রজাতিসহ বিভিন্ন জাতের গাছ গাছালির সারি সারি অবস্থান এ বনে। এ বনের ভেতর নানা জাতের গুল্ম, লতা, বাঁশ, বন্য শুকর, হলুদ কচ্ছপ, মায়া হরিণ ছিল পর্যটকদের আকৃষ্টের একটি কারণ।

এ উদ্যানে মানুষজনের উপস্থিতিতে তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা সাউন্ড সিস্টেমের কারণে বনের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল না। দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতি প্রেমীরা একটু শান্ত নিবিড় বনের মধ্যে বন্যপ্রাণী দেখার জন্য লাউয়াছড়া উদ্যানে আসতেন। তবে অস্বাভাবিকভাবে পর্যটকদের আগমণ ও হল্লা চিৎকারে বন্যপ্রাণী পর্যটকদের নাগালের বাইরে অবস্থান করত। সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এখন পর্যটক শূণ্য। লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের কারণে গত ১৯ মার্চ থেকে এ উদ্যানে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। এখন বন বনের মতোই আছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারের সহকারী বন সংরক্ষক আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পর্যটক শূণ্য থাকায় এ উদ্যানের জীববৈচিত্র্য সঠিক অবস্থানে আছে। বনের প্রাণীগুলো এখন মহা আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত