লকডাউনে ঋষি কপূর ও ইরফান খান দুই সহকর্মীকে হারিয়ে বিধ্বস্ত শর্মিলা ঠাকুর নিজের অনুভূতি উজাড় করে বলেছেন, এত দিনের দুই সহকর্মী, যাঁরা এক রকম পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গিয়েছিলেন।
প্রিয় অভিনেতাদের নিয়ে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ‘ডন’-এ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তাদের অভিনয়ের বিভিন্ন উজ্জ্বল দিক তুলে ধরেছেন।
শর্মিলা লিখেছেন, খ্যাতির শিখরে পৌঁছনো, সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা আমার অত্যন্ত প্রিয় দুই অভিনেতা-স্টার চলে গেলেন। পিছনে শুধু নিজেদের পরিবারকেই রেখে গেলেন তা নয়, রেখে গেলেন গুণমুগ্ধ বিশাল এক পরিবারকে।
লকডাউনের সময় দুই অভিনেতার চলে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুব খারাপ লাগছে এই ভেবে যে এমন দুই অভিনেতাকে শেষ বারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগও পেলাম না। তাদের চলে যাওয়া আমাকে বিধ্বস্ত করে দিয়ে গেল। এই দুই মহান অভিনেতা যে কত বড় শূন্যতা তৈরি করে গেলেন তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। আমরা কি পারব এই শূন্যতা কোনও দিন পূরণ করতে? আসলে আমরা সত্যিই কি চাই এই শূন্যতা পূরণ করতে?
দুই অভিনেতার অভিনয় প্রসঙ্গে শর্মিলা লিখেছেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকলেও দুজনেই যেন ঈশ্বর-প্রদত্ত প্রতিভার অধিকারী।
ঋষি কপূর প্রসঙ্গে শর্মিলা লিখেছেন, এমন সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অভিনয় ফুটিয়ে তুলতেন যে মন্ত্রমুগ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় থাকত না।
হাম তুম সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে শর্মিলা বলেন, যেখানে তার ছেলে সাইফ আলি খান ও ঋষি কপূর স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন। স্ক্রিনে দুজন যখন একসঙ্গে আসেন, ছেলে সাইফের থেকে সরে গিয়ে সব মনোযোগ কখন যেন ঋষির দিকে চলে যায়!
ইরফান প্রসঙ্গে শর্মিলা লিখেছেন, তিনি যেন নিজেকে লুকিয়ে রাখার ওস্তাদ। এমন ভাবলেশহীন, দৃঢ়, প্রাণোচ্ছ্বল, অথচ ভীষণ স্বাভাবিক অভিনয় করতেন। তা একদম ঋষির থেকে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করত।
ঋষির অভিনয় প্রতিভা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অমিতাভের সঙ্গে ১০২ নট আউট সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে ন শর্মিলা লিখছেন, ঋষি নিজের সেরা দিনে যে কোনও অভিনেতাকে পিছনে ফেলে দিতে পারতেন। মুলক সিনেমায় ঋষির অভিনয় তার কাছে সেরা বলে জানিয়েছেন শর্মিলা।
গত বুধবার, মাত্র ৫৩ বছর বয়সে নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমারের কারণে মারা যান ইরফান খান। তার ঠিক পরের দিনই ৬৭ বছর বয়সে লিউকোমিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ে হার মেনে ঋষি মৃত্যুবরণ করেন।
