চট্টগ্রামের বাঁশখালী উর্বর একটি উপজেলা। এখানে বারো মাসই ফলে নানা ধরনের শাকসবজি ও ফলমূল। ফলে এখানকার চাষিরা সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন ক্ষেত-খামারে। বর্তমানে সবজির পুরো মৌসুম চলমান। এর পাশাপাশি বর্তমানে বাজারে আসতে শুরু করেছে কালীপুরের সুস্বাদু লিচু।
বাঁশখালীতে এবার প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে লিচু হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়। তবে ঘরোয়া ও ব্যক্তিবিশেষে এর চাষের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে জানান তারা। এদিকে বাজারে আগাম লিচু আনতে পারায় চাষিরা অনেকটা খুশি হলে ও ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কায়ও রয়েছেন তারা। তবে আর সপ্তাহখানেক যদি পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে তাদের শ্রমের মূল্য অবশ্যই পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কালীপুরের লিচুচাষি মোজাম্মেল চৌধুরী। তিনি বলেন, ১০-১২ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ করে আসছি। আমার নিজের বাগানসহ কয়েকটি বাগান লিজ নেওয়া আছে। এখন যেভাবে পাকতে শুরু করেছে এক সপ্তাহ সময় পেলে সব বাজারে তোলা সম্ভব হবে। বাগানে বর্তমানে যে লিচু আছে তা যদি ঠিকমতো বিক্রি করতে পারি তাহলে ২০-২২ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছি।
এদিকে বর্তমানে ১০০টি লিচু বিত্রিু হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়। কালীপুরের লিচু আকারে ছোট হলেও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তাতে কোনো ধরনের বিষ কিংবা রাসায়নিক দেওয়া থাকে না। ফলে যে কারও কাছে এ লিচুর কদর একটু বেশি।
কালীপুর ছাড়াও বাঁশখালীর জলদী, সাধনপুর, পুকুরিয়া, বৈলছড়ি, শীলকুপ, চাম্বল, পুঁইছড়ির পাহাড়ি এলাকায় লিচুর ভালো ফলন এবং চাষ হয়ে থাকে। কালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ ন ম শাহাদত আলম বলেন, যুগ যুগ ধরে আমার এলাকার চাষিরা লিচু চাষ করে আসছে। বাঁশখালীর সবচেয়ে বেশি ফলন ও চাষ হয় কালীপুর এলাকায়। প্রতি বছর এই এলাকার চাষিরা অন্তত কোটি টাকার লিচু বিক্রি করে থাকেন।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, বাঁশখালীতে প্রায় ৭০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে লিচু চাষ হয়েছে। পুষ্টিগুণের দিক দিয়ে এখানকার লিচু বেশ ভালো। চাষিরা এখন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ভালো জাতের লিচু চাষ করে। এতে ফলনও ভালো পাচ্ছে।
