মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানের চা শ্রমিক কমলা বেগম। ঝড়ের মাঝে প্লান্টেশন এলাকা থেকে চায়ের কুঁড়ি তুলে ফেরার পথে পড়ে কোমর ভেঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর থেকেই অসুখ-বিসুখে দিন কাটছে তার। বাগানে মিলছে না চিকিৎসা সেবা। তার থাকার ঘর থাকলেও সংস্কার নেই। তার ছেলে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন।
তাই তার ছেলের ভাগ্যে বাগানে জুটছে না কাজ। চা বাগানে ঘর থাকলেও সেখানে থাকার পরিবেশ নেই। কমলা বেগমের এখন আশ্রয় হয়েছে পাত্রখোলা চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায়। কেউই রাখে না তার খবর।
শনিবার দুপুরে দেখা হয় কমলার সঙ্গে। তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, পাত্রখোলা চা বাগানের নারী শ্রমিক ছিলেন তিনি। এক ইউপি নির্বাচনে তিনি মাধবপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য হিসেবে লড়েছিলেন। দুই বছর আগে এক ঝড়ের সময় প্লান্টেশন এলাকা থেকে উত্তোলিত চা পাতা নিয়ে ফেরার সময় পড়ে গিয়ে কোমরে বড় ধরনের চোট পান। চা বাগানের পিচ্ছিল পথই তার জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে। এরপর থেকে আর কাজ করতে পারেন না তিনি। একমাত্র ছেলে সিদ্দিকও মানসিক ভাসাম্যহীন। পাত্রখোলা চা বাগানের নতুন লাইনে তার একটি ঘর ছিল। সে ঘরটিও দরজা-জানালাবিহীন জরাজীর্ণ। চা বাগান কর্তৃপক্ষও তার কোনো খোঁজ রাখে না। গত ৪ দিন ধরে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করছেন। কেউ খাবার দিলে খান, অথবা অনাহারে থাকেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনপ্রতিনিধি ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দও এখন তার কোনো খোঁজ রাখে না।
পাত্রখোলা চা বাগান ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, কমলা বেগম এ চা বাগানের নারী শ্রমিক ছিলেন। প্রায় ২ বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় তিনি অসুস্থ হয়ে এখন মানসিক ভারসাম্যহীন। তা ছাড়া তিনি অসুস্থ থাকা অবস্থায় ছয় মাস সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাও করিয়েছেন। তার ঘর রয়েছে তবে সে ঘরে তিনি থাকেন না। তাকে বার বার বলার পরও তিনি সে ঘরে যেতে রাজি নন।
তারপরও তাকে নিজ ঘরে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করা হবে বলে জানান বাগান ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম।
মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, তার ঘরটি মেরামত করে সে ঘরে তাকে ফিরিয়ে নিতে চা বাগান ব্যবস্থাপককে তিনি বলেছেন। যেহেতু কমলা বেগম অসুস্থ চা বাগানের তার নামটি তার এক ছেলেকে দিতে বলেছেন।
