নির্মম-নিষ্ঠুর আচরণকে ঢাকা দিতে চেয়েছিলেন করোনাভাইরাসের উপর দায় চাপিয়ে। পারলেন না!
নিজের ৫ বছরের শিশু সন্তানকে হত্যা করেছেন তুরস্কের ফুটবলার সিভহার তোকতাস। হত্যার দোষ চাপিয়েছিলেন করোনাভাইরাসের ওপর। কিন্তু বিবেকের কাছে হার মেনে শেষ মেষ নিজেই আত্মসমর্পণ করলেন তোকতাস।
নিজের কোনো মানসিক সমস্যা নেই বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তুরস্ক লিগে ইলদ্রিমস্পোর ক্লাবে খেলা এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার। ছেলেকে হত্যার দায়ে এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে এই ফুটবলারের।
কিন্তু কেন এমন করেছিলেন তিনি? তোকতাস জানিয়েছেন, ছেলেকে সহ্য করতে পারতেন না তিনি। এই ছেলেকে তিনি কখনও চাননি। যাকে চান না, তাকে দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে দেওয়ার কী দরকার? শেষমেশ নিজের পাঁচ বছরের শিশু সন্তানকে হত্যাই করেন। গত ২৩ এপ্রিল নৃশংস এই ঘটনা ঘটান তিনি।
এরপর বুরসা শহরে এক হাসপাতালে চিকিৎসকদের বলেছিলেন, করোনাভাইরাসের কাছে পরাজয় মেনেছে তার ‘প্রাণপ্রিয়’ ছেলে কাসিম। শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার কারণে যেহেতু মারা গেছে ছেলেটি, তাই ডাক্তাররাও সন্দেহ করেননি।
কিন্তু ডাক্তারকে ফাঁকি দিলেও নিজের বিবেককে কী আর ফাঁকি দেওয়া যায়? পারেননি তোকতাসও। নিজের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে হার মেনেছেন। হত্যা করার কয়েকদিন পর তাই নিজেই ধরা দিয়েছেন পুলিশের কাছে।
বাকিটা শোনা যাক তোকতাসের বয়ানেই, ‘ও ঘুমিয়ে ছিল হাঁ করে। বালিশ দিয়ে আমি ওর মুখ চেপে ধরি। প্রথমে একটু প্রতিরোধ করতে চাইলেও, পরে আর পারেনি। পনেরো মিনিট ধরে ওর মুখে বালিশ চেপে রাখি। আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যায় ওর শরীর।’
কিন্তু কেন নিজের ছেলেকে এভাবে মারলেন তোকতাস? তার ভাষায়, ‘আমি ওকে কখনই চাইনি। কেন জানি না ওকে সহ্যই করতে পারতাম না। জন্ম থেকেই ওকে ভালো লাগত না আমার। এটাই একমাত্র কারণ ও মারা যাওয়ার পেছনে, আমি ওকে পছন্দ করতাম না।’
