স্বাদ, ঘ্রাণ, লাল রং এবং রসে টইটম্বুর মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও বিখ্যাত কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে এবার মধু মাসের ফল লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাসের প্রভাবে দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন লিচুচাষিরা।
সরেজমিন দেখা যায়, মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত প্রতিটি বাগানে প্রচুর লিচু ধরেছে। লিচু আকারে বড় ও পাকা রং ধারণ করতে শুরু করেছে। আর তিন/চার দিন পরই থেকে পুরোদমে লিচু সংগ্রহ শুরু হবে। পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে লিচু রক্ষার্থে এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এখানকার চাষিরা। লিচু বাগানের ভেতরে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে তিন/চারজন মিলে রাতদিন পাহারা দিচ্ছেন লিচু।
মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের লিচু চাষি রিয়াদ বিন জামান (২৯) জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার বাগানের ৪৫টি গাছে প্রচুর লিচু ধরেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যায় এ পর্যন্ত তার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর এ বাগানটি তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাসের প্রভাবে ও পরিবহন সংকটে লিচুর প্রকৃত দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আল-আমিন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর আকৃতি, রং ও স্বাদে ভিন্ন হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লিচুর দামের ওপর করোনার প্রভাব তেমন পড়বে না।
