চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকলেও ৯৭ মিলিয়ন মানুষের দেশ ভিয়েতনামে করোনা রোগী পাওয়া গেছে মাত্র ৩০০ জন। কোনো মৃত্যু নেই। দেশটি কীভাবে সফল হল, তা নিয়ে দেশে-দেশে রীতিমতো গবেষণা চলছে। বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’ দেখিয়ে দেশটি কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।
‘আপনি যখন অপরিচিত রোগের সঙ্গে লড়াই করবেন, তখন অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতেই হবে,’ জানিয়ে ভিয়েতনামের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক ডা. টড পোল্যাক সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘ভিয়েতনাম কভিড-১৯ রোগের ক্ষেত্রে ঠিক তাই করেছে।’
ভিয়েতনামে প্রথম রোগী শনাক্তের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়। ওই সময় উহানে মাত্র দুজন রোগী মারা যায়।
এরপর ভিয়েতনামে প্রথম রোগী পাওয়া যায় ২৩ জানুয়ারি। ওই ব্যক্তি উহান থেকে ভিয়েতনামে ফেরেন। রোগী শনাক্ত করেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে দেশটির সরকার।
কয়েক দিনের ভেতর চীনের সঙ্গে আকাশযোগাযোগ তারা বন্ধ করে দেয়। রাজধানীর সঙ্গে তখন থেকেই বিচ্ছিন্ন করা হয় গ্রামগুলোকে। এরপর সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মেডিকেল টেস্ট, কোয়ারেন্টাইন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো বিষয় কঠোরভাবে মেনে চলায় করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
দেশটিতে প্রথমে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। করোনা সন্দেহে ১ লাখ ২১ হাজার মানুষের টেস্ট করানো হয়।
সেই ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের ৭২ বছর বয়সী এক সমাজকর্মী রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে মানুষকে সচেতন করেন। এএফপির সঙ্গে আলাপকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন তিনি, ‘আমরা মানুষ থেকে মানুষের কাছে গিয়েছি। সবাইকে আলাদা থাকার বিষয়ে সচেতন করেছি।’
‘সরকার থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করার চেষ্টা ছিল আমাদের।’
দেশটির এই সাফল্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক কার্ল থায়ার এশিয়া টাইমসকে বলেন, ‘চীন, আমেরিকা যা পারেনি ভিয়েতনাম তাই করে দেখিয়েছে।’
ভিয়েতনাম বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত থায়ার মনে করেন, দেশটি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে বলেই সফলতা পেয়েছে।
হাসপাতালের রুম পরিষ্কারসহ অনেক কাজে রোবট ব্যবহার করতে দেখা গেছে ভিয়েতনামকে। এ ছাড়া চিকিৎসাকর্মীদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য তাদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা ও খাবার প্রস্তুতের জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়। প্রতি দু-দিন অন্তর চিকিৎসাকর্মীদের বাধ্যতামূলক করোনা স্টেট করতে হয়েছে। যেসব বিদেশি পর্যটক ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ভিয়েতনামে ছিল তাদের প্রত্যেককে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে হয়েছে এবং হোটেলে চেক-ইনের সময় ও বিভিন্ন স্থানে প্রবেশের আগে তা দেখাতে হয়েছে।
কার্যকর লকডাউনের জন্য খাবার সরবরাহ চালু রাখাতে রাস্তার পাশে চালের বুথ করা হয়। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকাতে দেশটির ১২টি জেলাকে রেড মার্ক দিয়ে ‘হাই রিস্ক জোন’, মধ্যমানের ১৫টি জেলাকে গোলাপি ও ৩৫টি জেলাকে নীল রং দিয়ে কর্ম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
