চাতলাপুর অভিবাসনকেন্দ্র

দুর্ভোগে ভারত ও বাংলাদেশে আটকে পড়া দুই দেশের যাত্রীরা

আপডেট : ১৬ মে ২০২০, ০৩:০০ এএম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার চাতলাপুর অভিবাসনকেন্দ্র দিয়ে ভারতে গিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় আটকা পড়েছেন বেশ কিছু বাংলাদেশি। একইভাবে এই অভিবাসনকেন্দ্র ব্যবহার করে বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছেন বেশ কিছু ভারতীয় নাগরিক। এ অবস্থায় দুই দেশের আটকা পড়া নাগরিকরা চরম দুর্ভোগের মাঝে পড়েছেন।

চাতলাপুর অভিবাসনকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দুই দেশের সরকারি নির্দেশনায় সবগুলো অভিবাসনকেন্দ্রের মতো এক মাসেরও অধিক সময় ধরে এ কেন্দ্রটি দিয়ে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ফলে ভারতের উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহর, ধর্মনগরসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিক আত্মীয়ের বাড়িতে আটকা পড়েছেন। একইভাবে ভারত থেকে আসা বেশ কিছু ভারতীয় নাগরিক কমলগঞ্জের শমশেরনগর, কুলাউড়া সদর, শরীফপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও সিলেট শহরে আত্মীয় বাড়িতে আটকা পড়েছেন। এ অভিবাসনকেন্দ্রটি খোলা না পর্যন্ত তারা নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না।

সিলেট শহরে আত্মীয় বাড়িতে আটকা পড়া ভারতের কৈলাশহর লক্ষ্মীপুর গ্রামের শিক্ষার্থী নাদিয়া ফারজানা মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কয়েক দিন আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার ধারণা ছিল ভারতে ও বাংলাদেশে প্রথম দফা লকডাউন শেষ হলে তিনি চাতলাপুর অভিবাসনকেন্দ্র দিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন। তার পাসপোর্টে ভিসায় একমাত্র চাতলাপুর অভিবাসনকেন্দ্র উল্লেখ আছে। তিনি বর্তমানে আগরতলা অভিবাসনকেন্দ্র ব্যবহার করে ভারতে গেলেও প্রথমত ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, এ মুহূর্তে আগরতলা থেকে কৈলাশহরে রেল ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেহেতু তার দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।

কমলগঞ্জের শমশেরনগর পপুলার ফার্মেসির পার্থ প্রতীম দে বলেন, করোনা সংক্রমণের কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী ভারতের ত্রিপুরার ধর্মনগরে আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিলেন। অভিবাসনকেন্দ্রটি যাত্রী যাতায়াতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার স্ত্রী সেখানে আটকা পড়েছেন। তিনিও একমাত্র চাতলাপুর অভিবাসনকেন্দ্র ছাড়া দেশে ফিরতে পারছেন না।

এ বিষয়ে চাতলাপুর অভিবাসনকেন্দ্রের ইনচার্জ জামাল হোসেন বলেন, যখন সরকারি নির্দেশনায় অভিবাসনকেন্দ্র খুলবে, তখনই এসব নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফিরতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত