অনলাইন ক্লাসের সুবিধা নেই খুলনার অধিকাংশ শিক্ষার্থীর

আপডেট : ২০ মে ২০২০, ০৩:০০ এএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে অনলাইনে। সংসদ টেলিভিশনের পর ফেইসবুক পেজ ও ইউটিউবে খুলনায় নেওয়া হচ্ছে এই ক্লাস। তবে এই সুবিধা পাচ্ছে না জেলার বিভিন্ন উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ক্লাসের সুবিধা ইন্টারনেট ও এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা ছাড়া অন্য শিক্ষার্থীরা পাবে না।

খুলনা জেলা শিক্ষা কার্যালয় জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকেও সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত সব ক্লাস দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অধিদপ্তরের আওতাধীন সব আঞ্চলিক কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধকালীন ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠদানের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ‘সংসদে বাংলাদেশ টেলিভিশন’-এ নির্দিষ্ট অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক পাঠদান কর্মসূচি চলছে। সংসদ টেলিভিশনে চলমান রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রমও। সংসদ টেলিভিশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে খুলনায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাসের জন্য ফেইসবুক ও ইউটিউবে নেওয়া হচ্ছে ক্লাস। জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল প্রাইমারি এডুকেশন খুলনা ও ডিজিটাল সেকেন্ডারি এডুকেশন খুলনা নামে ফেইসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের কার্যক্রম গত ১১ মে উদ্বোধন করা হয়।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, খুলনা মহানগরীতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা নতুন এই ক্লাসের বিষয়ে কিছুটা আগ্রহী। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই বিষয়ে মোটেই জানেন না শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকরা। উন্নতমানের ফোন না থাকায় সুবিধাও পাচ্ছেন না তারা।

তেরখাদা উপজেলার শেরপুর গ্রামের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের একটি মাত্র মোবাইল ফোন। কিন্তু তাতে অনলাইনে ক্লাস করার মতো কোনো সুবিধা নেই। শুধু কথা বলা যায়।

খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকার শিক্ষার্থী রহিমা খাতুন বলেন, অনলাইনে ক্লাস করার মতো কোনো সুবিধা আমাদের নেই। তাই বিদ্যালয় বন্ধের পর থেকে পড়ালেখা তেমন হচ্ছে না।

খুলনা সিটি করপোরেশন পরিচালিত খুলনা সিটি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ মো. জিয়াউর রহমান স্বাধীন বলেন, এটা সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তিতে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভ্যস্ত নয়।

কয়রা থানা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়রা একটি প্রত্যন্ত উপজেলা। এখানে দিনমজুরের সংখ্যা বেশি। ফলে তাদের ইন্টারনেট ও এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা কম। সে কারণে এই ক্লাসের সুবিধা কম পাচ্ছে। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের সচেতন করার চেষ্টা করছি।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সিরাজুদ্দোহা বলেন, সংসদ টেলিভিশনের পাশাপাশি এটা শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ। সব শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে না। তবে তারা পরে দেখতে পারবে।

খুলনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার রুহুল আমিন বলেন, যে সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন এবং এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন থাকবে তারা এই ক্লাসের সুবিধা পাবেন। অন্যরা পাবেন না।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর শেখ হারুনর রশীদ বলেন, উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। কিন্তু যেখানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেখানে এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত