উইন্ডিজের সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য ৫ লাখ ডলার (প্রায় সোয়া ৪ কোটি টাকা) উপহার পাঠিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কিংবদন্তি পেসার মাইকেল হোল্ডিংয়ের দাবি, পুরো অর্থটাই নাকি মেরে দিয়েছে উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। এ ছাড়া বোর্ডের অন্যান্য দুর্নীতিও ফাঁস করে দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইউটিউবের এক শোতে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের এক অডিট প্রতিবেদন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন হোল্ডিং। কের ফস্টারের নেতৃত্বে ক্যারিবীয় ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনার জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। সে কমিটিই তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করে। হোল্ডিংয়ের হাতে সেই প্রতিবেদনটি যেন হয়ে উঠেছিল লাল চকচকে ক্রিকেট বল। যেটি দিয়ে সাবেক এই ফাস্ট বোলার একের পর এক বাউন্সার ছুড়েছেন।
তার অভিযোগ, ‘২০১৩-১৪ সালে বিসিসিআই ৫ লাখ ডলার দিয়েছিল সাবেক ক্রিকেটারদের দেওয়ার জন্য। আমিও একজন সাবেক ক্রিকেটার, বলছি না আমি এর ভাগ চাই কিন্তু আমি অনেক সাবেক ক্রিকেটারকেই চিনি যারা এ থেকে এক পয়সাও পায়নি। এমনকি শুনিওনি এই ৫ লাখ ডলারের এক পয়সাও কাউকে দেওয়া হয়েছে। আমি নিশ্চিত, বোর্ড যদি সেটা করত তবে অনেক বাদ্য-বাজনা শোনা যেত। সেই ৫ লাখ ডলার গেল কোথায়? আমি দর্শকদের খুব শিগগিরই বলব।’
৬৬ বছর বয়সী সাবেক ফাস্ট বোলার সেই নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিজের হাতে নিয়ে আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। বলেছেন, রিপোর্টটা যত পড়ছেন তত তার রাগ বাড়ছে ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট থেকে অনেক প্রধানমন্ত্রী (ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপের) এ অঞ্চলের ক্রিকেট কীভাবে চলে সেটার ফরেনসিক অডিট করতে বলেছেন। বর্তমানে যারা আছেন তারা ফরেনসিক অডিট না করলেও সাধারণ অডিট করেছেন। এটা জানুয়ারিতেই হাতে পেয়েছেন তারা। কিন্তু কখনো প্রকাশ করা হয়নি।’
প্রকাশ না হলেও হোল্ডিং সেটা হাতে পেয়েছেন। এবং তার মনে হয়েছে এটা প্রকাশ করা বোর্ডের দায়িত্ব, ‘৬০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে না। এটা খুবই মারাত্মক আর কড়া রিপোর্ট। আমি আরও গভীরে যেতে চাই এর। ওরা (বোর্ড) যদি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হতো তাহলে এই রিপোর্ট গোপন রাখার কথা বলতে পারত। কিন্তু যদি পাবলিক শেয়ার হোল্ডার থাকে, আপনি সে দাবি করতে পারেন না, বোর্ডের আরও ছয়টি আঞ্চলিক শেয়ার হোল্ডার বোর্ড আছে। তারা একটা নিয়মের কথা বলে রিপোর্টটি প্রকাশ করতে চাইছেন না।’
