ডাক্তাররা বলেছিলেন কোনোদিন সে হাঁটতে পারবে না। আত্মীয়-স্বজনেরাও তাই মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে ব্রিটেনের হলি রেড নামের ৫ বছরের শিশু এই লকডাউনের সময় হাঁটতে শিখেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, হলি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু। নির্ধারিত সময়ের ১৩ সপ্তাহ আগে তার জন্ম হয়েছিল। তখন থেকেই সে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। এতদিন বেঁচে থাকলেও অসুস্থতা তার নিত্যদিনের সঙ্গী।
জন্মের পর প্রথম ৮ মাস হাসপাতালে কাটানো হলি সম্প্রতি ঘরের সোফা ধরে ধরে হাঁটা শুরু করে। এটি দেখে তার মা-বাবা প্রথমে চমকে যান। পরে সেই দৃশ্য তারা ভিডিও করেন।
হলির মা স্টেফানি জানিয়েছেন, মেয়েকে এখন তিনি প্রতিদিন বেশ কিছু সময় হাঁটান।
‘অবিশ্বাস্য ব্যাপার। আমরা কোনোদিন ভাবিনি ও হাঁটতে পারবে,’ জানিয়ে স্টেফানি বলেন, ‘হাঁটার ভিডিও প্রচার করে আমরা হলির বিশেষ বাচ্চাদের স্কুলের জন্য ফান্ড সংগ্রহ করছি। ইতিমধ্যে ৮ হাজার পাউন্ড জোগাড় হয়েছে।’
‘হলি যখন জন্ম নেয় ওর ব্রেনের কিছু অংশ অকেজো ছিল। এখন দেখছি পা দিয়ে লাথি মারছে।’
হলির সঙ্গে তার মা-বাবা সাংকেতিক ভাষায় কথা বলেন। এখন তাকে প্রতিদিন ১০০ পা করে হাঁটানো হচ্ছে।
কীভাবে সম্ভব হল এটি?
এই প্রশ্নের উত্তর হলির মা-বাবার কাছেও নেই। চিকিৎসকেরা তো যারপরনাই বিস্মিত। তবে এমন ঘটনা পৃথিবীতে আরও অনেক আছে।
কিংবদন্তি লেখক নেপলিয়ন হিলের বিখ্যাত বই ‘থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ’-এ এমন অবিশ্বাস্য ঘটনার দারুণ একটি উদাহরণ দেয়া আছে।
বইটিতে তিনি এক যুবকের ঘটনা উল্লেখ করেন। যে ছেলেবেলায় একটুও কানে শুনতো না। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনোদিন সে শুনতেও পাবে না।
কিন্তু ছেলেটির বাবা কখনো বিশ্বাস হারাননি। তিনি সব সময় ভাবতেন তার ছেলে আবার শুনতে পাবে। নিজের এই বিশ্বাস সাংকেতিক ভাষায় ছেলের মাঝে ছড়িয়ে দিতেন। এক সময় ছেলেটি বিশেষ একটি যন্ত্রের সাহায্যে ঠিকই শোনা শুরু করে। পরে সেই ‘হিয়ারিং এইড’ কোম্পানিতে ছেলেটি বড় পদে চাকরিও পায়!
নেপলিয়ন হিল তার বইয়ে গোটা বিষয়টিকে ‘বিশ্বাসের সুফল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
হলির ক্ষেত্রেও অনেকটা এমন ঘটনা ঘটেছে। তার মা ব্রিটিশ গণমাধ্যম মেট্রোকে বলেন, ‘ওকে নিয়ে আমাদের কোনো প্রত্যাশা ছিল না। আমরা ভাবতাম ও আমাদের জন্য বোনাস। তবে আমরা সব সময় আশা আর বিশ্বাস ধরে রেখেছিলাম।’
