আবারও হিলি রেলপথ দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

আপডেট : ২৮ মে ২০২০, ০১:২০ পিএম

দেশের চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন পর হিলি রেলপথ দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি ছুটি, ভারত ও বাংলাদেশে লকডাউন চলার কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ দুমাসের বেশি সময় ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল।

পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে বন্দরে কর্মরত শ্রমিক, পাইকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজের একটি বড় চালান নিয়ে ভারতীয় একটি মালবাহী ট্রেন হিলি রেলস্টেশন আসে। এরপর সকাল ১০টার পর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রেন থেকে পেঁয়াজগুলো খালাস শুরু হয়। যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

বন্দরে কর্মরত শ্রমিক শেরেগুল ও সেকেন্দার আলী বলেন, দুমাসের বেশি সময় ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় আমরা যারা বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য লোড-আনলোড করে জীবিকা নির্বাহ করতাম বর্তমানে কাজকর্ম না থাকায় চরম বিপাকে পড়ে গেছি। খেয়ে না খেয়ে কোনরকমে জীবনযাপন করছি।

সম্প্রতি রেলপথ দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় আমরা খুব খুশি, কাজকর্ম করে ডাল ভাত খেয়ে চলতে পারবো। এভাবে যদি রেলপথ দিয়ে মালামাল আসে তাহলে আমরা কাজকর্ম করে স্বচ্ছলভাবে চলতে পারবো। যে দেশের পরিস্থিতি তাতে করোনাভাইরাসের সাথেই মোকাবিলা করে নিজেকে নিরাপদ থেকে কাজ করতে হবে। 

সাদ্দাম হোসেন ও রবিউল ইসলাম নামের দুই পেঁয়াজের পাইকার বলেন,  হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতাম আমরা। আমাদের মতো ৫০/৬০ জনের মতো পাইকার রয়েছেন এই বন্দরে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে পণ্য আমদানি-রপ্তানি না হওয়ায় আমরাও বিপাকে পড়ে গিয়েছিলাম। দীর্ঘদিন পর আবারও রেলপথে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় আমরা খানিকটা পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে পারছি।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই মাসে দেশের বাজারে বিশেষ করে পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় বাজারে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখি হতে থাকে। এমন অবস্থায় সরকার অনুমতি দেওয়ায় রেলপথ দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আমার প্রতিষ্ঠান রাইয়ান ট্রেডার্সের মাধ্যমে ১ হাজার ৬শ টনের এলসি খুলেছিলাম। আজ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে বিরল রেলবন্দর দিয়ে ৪২টি ওয়াগেনের মধ্যদিয়ে আমদানিকৃত পেঁয়াজ হিলি স্টেশনে এসেছে।

এই রেলপথ ভালো হওয়ায় দীর্ঘদিন পর ভারত থেকে বিরল হয়ে হিলি স্টেশনে আসতে ৯ দিনের মতো সময় লাগলো। তবে এই পথ দিয়ে আরো কিছু কাজ রয়েছে সেগুলো সমাধান করা হলে রেলপথ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হবে যা দিয়ে দেশের সমগ্র উত্তরবঙ্গতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

দীর্ঘদিন পর পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ যেমন বাড়বে তেমনি দামও কমে আসবে। আমদানিকৃত এসব পেঁয়াজ আমাদের ২১/২২ টাকার মতো পড়তা রয়েছে যা বিক্রি করা হচ্ছে প্রকারভেদে ২৩/২৭ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজ কাঁচামাল হওয়ায় এর ঘাটতি রয়েছে ও নষ্ট হওয়ায় কেজিতে কিছুটা ব্যবধান রেখে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়।

হিলি রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভারত থেকে ৪২টি বগিতে পেঁয়াজ নিয়ে ভারতীয় একটি মালবাহী ট্রেন হিলি রেলস্টেশনে এসে পৌঁছে। এরপর ট্রেন থেকে পেঁয়াজ আনলোডের কাজ চলছে। ট্রেন থেকে পেঁয়াজ খালাস শেষ হলে ভারতীয় ট্রেনটি পুনরায় দর্শনা বন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত