‘কর্মদক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা ও ব্যবসায়িক সততার মাধ্যমেই সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে উঠেছিলেন মোনেম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মোনেম।’
সদ্য প্রয়াত এই শিল্পপতি ও সফল ব্যবসায়ীকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রোকিয়া আফজাল রহমান।
সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বা বারবার ক্ষমতার পালাবদল হলেও আবদুল মোনেমের ব্যবসায়িক মতাদর্শকে প্রভাবিত করতে পারেনি।
আবদুল মোনেম রবিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। এর আগে গত ১৭ মে স্ট্রোক করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বিশিষ্ট এই শিল্পপতির হাতে গড়া আবদুল মোনেম লিমিটেড দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৫৭ সালে এএমএল কন্সট্রাকশন দিয়ে যাত্রা শুরু করে।
এরপর বাংলাদেশের নির্মাণ খাতে অন্যতম সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে মোনেম গ্রুপ। নির্মাণ খাত ছাড়াও, জ্বালানি, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ সামগ্রী, ফার্মাসিউটিক্যাল, খাদ্য ও পানীয় খাতেও ব্যবসা রয়েছে মোনেম গ্রুপের।
রোকিয়া আফজাল রহমান বলছিলেন, আবদুল মোনেম নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শকে কখনো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হতে দেননি। বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক ব্যবসায়ীই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা আদায় করে থাকেন। কিন্তু আবদুল মোনেম তার সততা দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন যে তিনি কোনো রাজনৈতিক চাপে প্রভাবিত হবেন না। তিনি সৎভাবে ব্যবসা করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে ব্যবসা কতটা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।’
নিটোল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ বলেন, ‘যে কোনো বড় ধরনের ব্যবসাতেই একটি দেশের সরকারের সাথে কাজ করতে হয়। আবদুল মোনেমও সব সরকারের সাথেই কাজ করেছেন। কিন্তু কখনও কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে পক্ষপাতী ছিলেন না তিনি। আর এ জন্য সব সরকারই বড় বড় কাজের জন্য তাকেই ডাকতো।’
