হিলি সীমান্তের ওপারে আটকা মৃত্যুর প্রহর গোনা নুরুল আমিন

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ০৫:৫৮ পিএম

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় মৃত্যুর পথযাত্রী ক্যানসার আক্রান্ত নুরুল আমিন (৩৫)। লকডাউন চলার কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ভারতের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আটকা পড়ে রয়েছেন।

চিকিৎসকেরা তার জীবনের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাংলার মাটিতে এসে মৃত্যুবরণের আশায় সীমান্তে এসেও কাঁটাতারের ওপারে আটকা পড়ে রয়েছেন।

গত ২১ মার্চ তিনি হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান চিকিৎসার জন্য। তিনি লালমনিরহাট জেলার সগুনতলা গ্রামের আল আমিনের ছেলে।

দেশে তার ক্যানসার ধরা পড়লে লকডাউন শুরু হওয়ার ৫দিন আগে ভারতের পাঞ্জাবে তার বোনের বাড়িতে যান চিকিৎসার জন্য।

বুধবার সকাল ১১টায় সরেজমিনে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী ও বৃদ্ধ মা তাকে নেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বসে রয়েছেন আর বিলাপ করছেন। তারা মঙ্গলবার বিকেল থেকে সেখানে অপেক্ষায় রয়েছেন, একইভাবে ভারতীয় অংশে তার মেয়ে ভারতীয় নাগরিক ও ছেলে মাইক্রোতে রয়েছেন কিন্তু ভারতীয় ইমিগ্রেশন অনুমতি না দেওয়ায় দেশে ফিরতে পারছেন না।

তাকে নিতে আসা তার স্ত্রী রেখা ও বৃদ্ধ মা উম্মে কুলছুম বলেন, ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ায় ভারতে তার বোনের কাছে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে। এখন চিকিৎসকেরা তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। সে চলাফেরাও আর করতে পারে না, পায়খানা প্রসাব বিছানায় করেন এমন অবস্থায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের পাঞ্জাব থেকে মাইক্রোতে করে ৮০ হাজার টাকা ভাড়ায় গতকাল ভারতের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসে। আমরা মনে করেছিলাম যেহেতু যাওয়ার সময় এদিক দিয়ে গিয়েছিল তাই এই পথ দিয়েই ফিরে আসবে। কিন্তু সেখানে আসার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে আসতে দিচ্ছে না তাদের নাকি সবকিছু বন্ধ।

এখন আবার বেনাপোল দিয়ে ঘুরে আসতে বলছে, কিন্তু আমরা একেতো যে মাইক্রোতে করে তাকে নিয়ে আসছি এতটাকা খরচ করে তার উপর গাড়িতেই পায়খান প্রসাব করায় তারাও আর যেতে চাচ্ছে না, তাকে ওখানেই নামিয়ে দিতে চাচ্ছেন বলে আমরা শুনছি আমরা এখনতো বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি।

না পারছি ওদিকে নিয়ে যেতে না পারছি এদিক দিয়ে দেশে ফিরতে কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। আবার ছেলে বলছে বাংলার মাটিতে এসে মরলেও শান্তি পেতাম, দেশে ফিরতে চাচ্ছে, কিন্তু আমরা তাকে কিভাবে পার করবো তার তো কোনো কূলকিনারা পাচ্ছি না। এর উপর তাকে নেওয়ার জন্য আমরাও লালমনিরহাট থেকে মাইক্রো নিয়ে গতকাল হিলিতে এসেছি যার ভাড়াও বাড়ছে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকেপোস্ট ওসি সেকেন্দার আলী জানান, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাত্রী পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা কার্যক্রম চালু থাকলেও ভারত যাত্রী আসতে না দেওয়ায় সেটিও বন্ধ রয়েছে। তবে তাদেরকে বেনাপোলসহ অন্যান্য ইমিগ্রেশন চেকেপোস্টের কার্যক্রম চালু রয়েছে তারা সেদিক দিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন, এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত