নিয়মগুলো এখন ভিন্নভাবে মনে রাখতে হবে : নাসের হুসেইন

আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ০৪:৫৭ এএম

একজন ক্রিকেটার তার ক্যারিয়ারজুড়ে একটাই মন্ত্র শিখেছেন। বলে শাইন করা। ফিল্ডিংয়ে থাকার সময় বল হাতে আসা মাত্র সেটিকে ঘষে একপাশ উজ্জ্বল রাখা। এ জন্য বেশিরভাগ সময় থুতু ব্যবহার হয়। এই নিয়মটা পাড়ার ক্রিকেট থেকে আন্তর্জাতিক সব জায়গায় একই। উইকেট পড়ার পর দলের উল্লাসের নিয়মও এক। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কখনো খালি মাঠে হয়নি। কম করে হলেও হাজার খানেক দর্শক মাঠে থাকেন যেকোনো ম্যাচে। এসবেই অভ্যস্ত একজন ক্রিকেটার। কিন্তু সামনের মাস থেকে হুট হরে দৃশ্যে বদল আসছে। নতুন নিয়মগুলোও তাই মুখস্থ পড়ার মতো মনে রাখতে হবে ক্রিকেটারদের। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন বলছেন এমনটা।

করোনাভাইরাসপরবর্তী ফুটবল শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডে এখন অনুমতি মিলেছে মাঠের খেলায় ফেরার। তাই এ মাসেই প্রথমে ফুটবল এবং সামনের মাসে ক্রিকেট মাঠে ফিরছে দেশটিতে। কিন্তু চিরাচরিত স্টেডিয়ামভর্তি দর্শক, মাঠে খেলোয়াড়দের উল্লাস, ক্রিকেটে ফিল্ডিং দলের বলে শাইন দেওয়ার বিষয়গুলো থাকবে না। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পদক্ষেপ হিসেবে যুগ যুগ ধরে চলে আসা নিয়মগুলো বাতিল হয়ে গেছে। ৫২ বছর বয়সী সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক বলছেন, এই ব্যাপারগুলো মনে রাখা চ্যালেঞ্জিং হবে সব খেলোয়াড়ের জন্য। উইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের হোম সিরিজে ক্রিকেটাররা কীভাবে এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মানিয়ে নেন সেটা দেখার অপেক্ষায় নাসের হুসেইন। স্কাই স্পোর্টস নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন জানান, ‘১০ বছর ধরে একজন ক্রিকেটার তার মস্তিষ্ককে একটি অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসে। বলে শাইন দেওয়া, উইকেটের পর সতীর্থকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানানো, গ্যালারির পরিবেশ; কিন্তু এখন তাদের এসব ভুলতে হবে। সবাই কিন্তু এতে অভ্যস্ত। কিন্তু নতুন নিয়মের কারণে তাদের মস্তিষ্ককে আবার নতুন করে অভ্যস্ত করতে হবে।’

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ভয় পেলেও বর্তমান অধিনায়ক এটা নিয়ে ভাবছেন না। জো রুট থুতু ছাড়াও তার বোলাররা নিখুঁত সুইং আনতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন। আগামী ৮ জুলাই করোনাভাইরাসপরবর্তী মাঠের ক্রিকেট ফিরবে ইংল্যান্ড-উইন্ডিজ সিরিজ দিয়েই। সেই সিরিজে বল চকচকে করতে থুতু ব্যবহার না করেও ইংলিশ পেসাররা সফল হবেন বলে বিশ্বাস রুটের। থুতু ব্যবহার না করে সুইং করাতে চার-পাঁচ সপ্তাহের অনুশীলনেই জেমস অ্যান্ডারসনরা শিখে যাবে বলে বিশ্বাস করেন ইংলিশ অধিনায়ক, ‘বল সুইং করানোর বিষয়টা একজন বোলারের স্কিলের ওপর নির্ভর করে। আমার বিশ্বাস থুতু ছাড়া আমাদের বোলাররা সেই কাজ করতে পারবে। স্কিলের দিক থেকে ব্যাপারটি আমাদের বোলারদের জন্য সুবিধা করে দিয়েছে। আমরা বাতাসে সুইং, সিম পজিশন, বোলিং লাইন এসব নিয়ে কাজ করছি। আশা করি ৪-৫ সপ্তাহের অনুশীলনে আমরা থুতু ব্যবহার না করেই বল সুইং করানোর বিষয়টি আয়ত্ত করে ফেলব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত