বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ শিহাব পুনরায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমবার সুস্থ হয়ে ওঠার পর এক করোনা রোগীকে প্লাজমা দেয়ার সময় তার দ্বিতীয়বার কভিড-১৯ ধরা পরে।
বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথমবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে সাবেক এক এমপির স্ত্রীর জন্য প্লাজমা দিতে ঢাকা যান শিহাব। এরপর আবার তার করোনা ধরা পড়ল, যা খুবই দুঃখজনক বিষয়, তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।
ডা. মুহাম্মাদ শিহাব বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার। তার আক্রান্তের সংবাদ গত বুধবার দুপুরে জানাজানি হয়। এরপর নিজেকে আইসোলেশনে রাখেন তিনি। তবে আবার সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে যোগদান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিহাব।
ডা. মুহাম্মদ শিহাব জানান, শিহাবউদ্দিন গত এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় মারামারির ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক রোগীর প্রথমে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর একে একে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন নার্স এবং একজন পিয়নের শরীরে কভিড-১৯ পজিটিভ আসে। এরপর পুরো হাসপাতাল লকডাউন ঘোষণা করে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সব চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হোম কোয়ারেন্টিনে চলে যান। গত ১৮ এপ্রিল শিহাবউদ্দিনসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও বেশ কয়েকজনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে তার, তিনজন নার্স, একজন স্বাস্থ্যকর্মী, একজন পিয়ন ও কজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর করোনা পজিটিভ হয়।
২৩ এপ্রিল শিহাবউদ্দিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। ১০ দিন পর প্রথম এবং এর ৭২ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ফলোআপ নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা নেগেটিভ আসে। ২৭ এপ্রিল সুস্থ হয়ে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
গত ২০ মে আবারও কর্মস্থলে যোগ দেন ডা. শিহাব। এরই মধ্যে একজনের মাকে বাঁচাতে প্লাজমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২৬ মে এ জন্য সোজা ঢাকায় চলে যান এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্লাজমা দিয়ে ওইদিন রাতেই বরিশালে ফিরে আসেন। পাশাপাশি যথানিয়মে কাজ চালিয়ে যেতে যেতে জ্বর-সর্দি-কাশি অনুভব অর্থাৎ নিজের শরীরে করোনার উপসর্গ অনুভব করেন। যদিও প্রথমবার এসবের কোনো লক্ষণই তার ছিল না। তাই ৩০ মে আবার কোভিড টেস্টের জন্য নমুনা দেন যার রিপোর্ট গত বুধবার পজিটিভ আসে।
