রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক বিয়ে এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মোর্শেদ শাহরিয়ার নামে ওই ব্যবসায়ী একটি বেসরকারি টেলিভিশন ও জাতীয় দৈনিকের নরসিংদী প্রতিনিধি। শুক্রবার রাতে পুলিশ মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে রেকর্ড করেছে।
এর আগে মোর্শেদ শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার খিলগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ মামলা নেয়।
খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলে বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলায় ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন, একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে মোর্শেদ শাহরিয়ারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০১৭ সালে তার সঙ্গে ফেইসবুকে যোগাযোগ শুরু হয়। তখন তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মোর্শেদ তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ঢাকা ও সিলেটের বিভিন্ন হোটেল নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে। ওই সম্পর্কের গোপন ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাক মেইল করতে থাকে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে।
এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীটি বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ২৩ মার্চ তাকে একটি কাজী অফিসে ৫ হাজার টাকা দেন মোহর উল্লেখ করে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ ও হুমকি দিতে থাকে। গত ৩১ মে খিলগাঁওয়ে তার বাসায় গিয়ে মারধর করে। সে ওইসব ভিডিও হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।
ছাত্রীর অভিযোগের বিষয়ে মোর্শেদ শাহরিয়ার গত বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রী তার তৃতীয় স্ত্রী। সে বিশেষ সুবিধা হাসিলের জন্য তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।
