মোদি সরকারের গুণগান গাইতে গিয়ে উল্টো বিপত্তি! ঘূর্ণিঝড় আম্পানে উপড়ে পড়া গাছ সরিয়েছিল ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স বা এনডিআরএফ কর্মীরা— সেই ছবির সঙ্গে পোস্ট হয়ে যায় ‘মদের আসর’-এর ছবি। তার জেরে ছেঁটে ফেলা হলো ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিডিয়া উইংয়ের পুরো দলকেই।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, শুক্রবার নর্থ ব্লকের একঝাঁক অফিসারের রদবদল ঘিরে সরগরম দিল্লির রাজনৈতিক পরিমণ্ডল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ছিলেন বসুধা গুপ্ত, তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র অফিসে। আপাতত তিনি সেখানকার ফ্যাক্ট চেক ইউনিটের দেখভাল করবেন। তার জায়গায় দায়িত্ব নিচ্ছেন ব্যুরো অব কমিউনিকেশনের ডিরেক্টর জেনারেল নিতিন ওয়াকঙ্কর। ওয়াকঙ্কর এর আগে সিবিআই ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দায়িত্ব সামলেছেন।
বদলি করা হয়েছে ডেপুটি ডিরেক্টর পদমর্যাদার দুই অফিসার বিরাট মজবুর ও শেলাত হরিৎ কেতনকে। দুজনকেই অল ইন্ডিয়া রেডিওতে পাঠানো হয়েছে।
২৮ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পেজে একটি পোস্ট করা হয়। হাওড়ার পাঁচলার দেউলপুরে এনডিআরএফ কর্মীরা কীভাবে গাছ সরানোর কাজ করছেন, সেটাই তুলে ধরা হয়েছিল ছবিতে। কিন্তু এ রকম দুটি ছবির সঙ্গে পোস্ট করা তৃতীয় ছবিতে দেখা যায় টেবিলের ওপর রাখা দুটি হুইস্কির বোতল, গ্লাসে মদ ও চানাচুরের মতো কিছু ভাজাভুজির ছবি। এই ছবি ঘিরেই গোল বাধে।
ওই পোস্টের জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। আম্পানের চেয়েও তা দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই ওই পোস্টে নানা রকম কমেন্ট করতে থাকেন। কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছেন।
ওই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন অমিত শাহ। পরে সেই পোস্ট মুছে ফেইসবুকে ক্ষমা চাওয়া হলেও ‘বিপর্যয়’ যা হওয়ার তা হয়ে গেছে ততক্ষণে।
এর ওপর আগের একটি অভিযোগ তো ছিলই। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির এক বছর পূর্তিতে সব মন্ত্রণালয়ের সাফল্য তুলে ধরা হয়। কিন্তু আবারও ‘ভুল’ করে বসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া উইং। সাফল্যের তালিকায় রাখাই হয়নি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ। পরে যে পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়, তাতে অবশ্য সিএএ-র বিষয়টি যোগ করা হয়।
অন্যদিকে সাংবাদিকরাও মিডিয়া উইং নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিক প্রতিবেদন বা খবরকে ‘ফেইক নিউজ’ বলে উল্লেখ করা হয়। কয়েকজন সাংবাদিককে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ‘রিজয়েন্ডার’ না দিয়ে টুইটারে আক্রমণ করা হয়।
