গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ এক সন্তানের জননী বীথি হত্যার দেড় বছর পর একজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ জানতে পারে গৃহবধূ বীথিকে তার স্বামী ও ননদসহ কয়েকজন মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক তৈরি করে করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান রবিবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ লিটনকে (২৬) গত ৪ জুন আটক করে। পরে ওই দিন লিটনকে গাজীপুর আদালতে নেয়া হলে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
তিনি লিটনের বরাত দিয়ে জানান, প্রেমের সম্পর্ক থাকায় ২০১৩ সালে ভোগড়া এলাকার আফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. রাশেদ চৌধুরী ওরফে রন্টির (৩০) সঙ্গে একই এলাকার ফারজানা আক্তার ওরফে বীথির (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের পর রন্টির পরিবারের সদস্যরা বীথিকে ভালোভাবে মেনে নেয়নি। যার প্রেক্ষিতে বীথির সাথে তার স্বামী রন্টির পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো এবং মাঝে মধ্যে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটতো। এক পর্যায়ে রন্টিকে তার পরিবারের লোকজন পুনরায় অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং রন্টিও তাদের পক্ষাবলম্বন করে। ইতিমধ্যে রন্টি তাদের ভাড়াটিয়া তানি নামের একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ সকল বিষয় নিয়ে স্ত্রী বীথির সাথে রন্টির চরম মনোমালিন্য সৃষ্টি হলে বীথি রাগ করে তার বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে স্থানীয় সালিশ এর মাধ্যমে রন্টির স্ত্রী পুনরায় তার স্বামীর ঘরে ফিরে আসে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রন্টি, তার বোন তোরা, মামা খালেক, মামাতো ভাই ছানি, কাজের মেয়ে আছমা এবং আছমার স্বামী মুমিন মিলে গৃহবধূ ফারজানা আক্তার ওরফে বীথিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় লিটনকেও অংশগ্রহণ করতে বলে। ৯ আগস্ট তারা সকলে মিলে বীথির শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মৃতদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।
ময়নাতদন্তে নিহত বীথিকে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে নিহতের বড়ভাই রুহুল আমিন সরকার রনি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। গাজীপুর পিবিআই মামলাটি দেড় বছর তদন্ত করে হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
