মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মসজিদের ইমাম সেজে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক গ্রহণ করেছিলেন কেরামত আলী নামের এক প্রতারক। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক গুঞ্জন ও প্রতিবাদ শুরু হলে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে চেকটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিলেন ভুয়া ইমাম।
গত শনিবার (৬ জুন) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে কমলগঞ্জে সাংসদের কাছ থেকে চেক গ্রহণ করেছিলেন কেরামত আলী আর পরদিন রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গৃহীত ৫ হাজার টাকার চেকটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউপির দক্ষিণ কালেঙ্গা গ্রামে একটি জামে মসজিদ দেখিয়ে সে মসজিদের ইমাম সেজে সরকারি অনুদানের ৫ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেন ওই এলাকার কেরামত আলী নামে এক হুজুর। তিনি কোনো মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন নন তারপরও ভুয়া মসজিদের নাম দিয়ে নিজেকে তিনি মসজিদের ইমাম দাবি করে শনিবার বিকেলে মসজিদ ভিত্তিক নগদ ৫ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেন। এরপর থেকে এ বিষয় নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
আলাপকালে কালেঙ্গা গ্রামের কয়েকজন ইমাম জানান, কেরামত আলী মসজিদের ইমাম সেজে ভুয়া নামে মসজিদ দেখিয়ে এই অনুদানের চেক গ্রহণ করে প্রতারণা করেছেন।
এ বিষয়ে কেরামত আলীর সাথে মোঠফোনে কথা বললে চেক গ্রহণের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি একজন ইমাম। তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠায় তিনি এ চেক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে ফিরত দিয়ে দিয়েছেন বলে ফোনটি রেখে দেন।
রহিমপুর ইউপির স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, দক্ষিণ কালেঙ্গা জামে মসজিদ নামে কোন আমার এলাকায় কোন মসজিদ নেই। এই নাম ব্যবহার করে কিভাবে উনি (কোরামত আলী) চেক গ্রহণ করলেন সেটা আমার জানা নেই। তবে রবিবার কমলগঞ্জ উপজেলা র্নিবাহী র্কমর্কতা বিষয়টি আমাকে জানালে আমি কেরামত আলীর কাছ থেকে চেক উদ্বার করে নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে জমা দিয়েছি।
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কমলগঞ্জের সুপারভাইজর ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মসজিদের ও ইমামদের তালিকা দেওয়া হয়েছিল। এখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের করার কিছু নেই।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ৭ জুন চেকটি উদ্ধার করে নিয়ে আসি। তাছাড়া কেরামত আলী বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ ঘটানোসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কেরামত আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।
