নরসিংদীতে করোনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৬

আপডেট : ০৯ জুন ২০২০, ১২:৩৫ পিএম

নরসিংদীর বেলাবতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফজলু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার বারৈচা গ্রামের নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে জেলায় নতুন করে আরও ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত ৮৩৯ জন। আর মারা গেছে ১৩ জন।

মঙ্গলবার সকালে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ইব্রাহিম টিটন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ফজলু মিয়া বারৈচা বাজারে সবজির ব্যবসা করতেন।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফজলু মিয়া গত ৩১ মে রবিবার করোনা উপসর্গ জ্বর, ঠান্ডা নিয়ে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেয়।

রবিবার রাতে সেই নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। তিনি বাড়িতেই চিকিৎসকদের পরামর্শে আইসোলেশনে ছিলেন। সোমবার দিবাগত রাতে তিনি বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ডায়বেটিসের রোগী ছিলেন। বেলাব উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিহতের জানাজা ও দাফন কাজ সম্পন্ন করবে।

এদিকে গত মঙ্গলবার করোনাভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহে ১৯০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

সোমবার রাতে সেসব নমুনার মধ্যে ১৬৫টির পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। এতে নতুন আরও ৩৬ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত ৩৬ জনের মধ্যে ৩৩ জন নরসিংদী সদর উপজেলার, রায়পুরায় উপজেলার ১ জন, ও মনোহরদী উপজেলার ২ জন।

এছাড়া গত রবিবার করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালে মারা যাওয়া  কাজল রানী সাহার (৫৭) পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে।

আর মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার ছয়টি উপজেলা থেকে মোট ৪৮১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪২০০ জনের রেজাল্ট পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৮৩৯ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে। জেলায় সংক্রমিতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৮৪ জন, রায়পুরাতে ৬১ জন, শিবপুরে ৬০ জন, বেলাবোতে ৫০ জন, পলাশে ৫৮ জন ও মনোহরদীতে ২৬ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ২৫৯ জন, আক্রান্ত ৪২ জন হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন, আর ৫২৫ জন আইসোলেশনে আছেন বাড়িতে।

আর এখন পর্যন্ত জেলায় মারা গেছেন মোট ১৩ জন, এর মধ্যে নরসিংদী সদরে ৯ জন, পলাশে ১ জন, রায়পুরায় ১ জন ও বেলাব উপজেলায় ২ জন।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. ইব্রাহীম টিটন বলেন, জেলায় করোনা বিস্তার রোধে এলাকাভিত্তিক কোন কোন স্থানে করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে করোনা সংক্রামণ বেশি সদর উপজেলায় মাধবদী ও পলাশে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে করোনা সংক্রামণ রোধে কাজ করা হচ্ছে। আর নতুন করে যারা উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিচ্ছে তাদের রেজাল্ট না আসা পর্যন্ত বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত