মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০০ মসিজেদের ইমামদের প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ।
তবে জানা গেছে, আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব জালালপুর গ্রামের মুফতি নামধারী আব্দুল জলিল অস্তিত্বহীন “সিতারা বিবি জামে মসজিদ” দেখিয়ে সে মসজিদের ইমাম সেজে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের ৫ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেছেন। এলাকাবাসী নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলে বরাদ্দের চেক আটকে সেটি উদ্ধার করা হয়।
আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব জালালপুর গ্রামের “বাইতুন নাজাত জামে মসজিদ” পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ বলেন, মুফতি নামধারী আব্দুল জলিল কমলগঞ্জ উপজেলার কোনো মসজিদের ইমাম নন। তিনি সম্প্রতি প্রতারণা করে “বাইতুন নাজাত জামে মসজিদ”-এর নাম কেটে সিতারা বিবি জামে মসজিদ নামে একটি মসজিদের নাম তালিকাভুক্ত করেন। তিনি সে মসজিদের ইমাম সেজে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের ৫ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মতিক্রমে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর সোমবার একটি লিখিত অভিযোগ করি।
তিনি জানান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিতারা বিবি জামে মসজিদের নামে আসা চেকটির টাকা উত্তোলনে আটকে দেন।
বুধবার আদমপুরের পূর্ব জালালপুর গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিতারা বিবি জামে মসজিদ নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্বই নেই।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল জলিল নিজেকে একজন মুফতি দাবি করলেও তিনি একজন প্রতারক। তাই এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যেমে তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল দেশ রূপান্তরকে জানান, আমি প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের ৫ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করিনি। আমি কোনো মসজিদের নাম কাটার ক্ষমতা রাখি না। এটা প্রিন্টিং মিসটেক হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়েই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে চেক উদ্ধার করি। পরবর্তীতে এ নিয়ে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত ৬ জুন চেক প্রদানের পরদিনই অভিযোগ ওঠে রহিমপুর ইউপির কালেঙ্গা এলাকার মসজিদ দেখিয়ে ইমাম সেজে কেরামত আলী নামে এক প্রতারক ৫ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেছিলেন। একইভাবে পতনউষার ইউপির মহেষপুর গ্রামে প্রতারণা করে মাদ্রাসাকে মসজিদ দেখিয়ে ইমাম সেজে মাওলানা ফয়ছল আহমদ নামে এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী অনুদানের চেক গ্রহণ করেছিলেন।
