করোনা উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও কোন চিকিৎসা না পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বজরাপুর রেলগেট গ্রামের শুকুর আলী (২৮) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
তিনি ওই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ও কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি। তার কর্মস্থল গাজীপুর জেলার কাপাশিয়া উপজেলায়।
মৃতের ভাই শাহাদত হোসেন বলেন, গত ৩ দিন আগে শুকুর আলী গাজীপুর থেকে বাড়ি আসে। এরপর তার তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।বৃহস্পতিবার সকালে তাকে দ্রুত উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ভেন্টিলেশন নেই বলে জানিয়ে তাকে সদর উপজেলার বাগবাটি কোভিড হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে গেলেও তাকে ভর্তি না করে চিকিৎসকরা কোভিড পরীক্ষার সনদ চান। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করতে না পেরে বাড়িতে ফেরত নিয়ে যাই। রাতে তার শ্বাসকষ্ট আরো বেড়ে যায়। ফলে বিনা চিকিৎসায় ও চিকিৎসকের অবহেলায় আমার ছোট ভাই মারা যায়।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, তার যে করোনার উপসর্গ ছিল, সকালে তিনি হাসপাতালে আসলেও প্রকাশ করেননি।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি মারা যাওয়ার পর জানা গেছে যে তার শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল। সে যে করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেছে সে বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান বলেন, আপাতত বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। এ ছাড়া যারা তার সংস্পর্শে এসেছে তাদের নমনা সংগ্রহ করা হয়েছে ও তাদেও হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
