ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত, তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ও সাংবাদিক রেজাউল করিম বিপুলকে আরো পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও মারপিটের মামলায় শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ ফারুক হোসেনের আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়। শুনানী শেষে আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১৮ মে অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, এর আগে শনিবার বেলা ৩টার দিকে সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ও রেজাউল করিম বিপুলকে ওই আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পৃথক-পৃথকভাবে অস্ত্র মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা।
তিনি জানান, আদালতে দায়ের জবানবন্দিতে গ্রেপ্তার তিনজনই দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে ৮ জুন অস্ত্র মামলায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। শনিবার ওই রিমান্ডের সময়সীমা শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হয় বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান।
৭ জুন রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়ের মামলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ও রেজাউল করিম বিপুলসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৬০ হাজার কেজি চাল, ৩ হাজার ইউএস ডলার, ৯৮ হাজার ভারতীয় রূপী ও ২৯ লাখ টাকাসহ সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও একাধিক পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগে এ পর্যন্ত চারটি মামলা রুজু হয়েছে।
জানা গেছে, সাজ্জাদ হোসেন বরকত শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি এসবি কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী ফার্মের মালিক এবং জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতিও হয়েছিলেন। আর তাই ইমিতিয়াজ হাসান রুবেল ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। এসব পদ থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের সাথে গ্রেপ্তার রেজাউল করিম বিপুল একটি নিউজ পোর্টালের ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
