করোনাভাইরাসের ধাক্কায় ফের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইরান। দুই মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ মারা গেছে দেশটিতে।
আলজাজিরা জানায়, রবিবার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিমা সাদাত লারি এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১০৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৩৭ জনে।
নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ের ধাক্কার মুখে এখন ইরান। এখন পর্যন্ত দেশটিতে এক লাখ ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নতুন দফায় জুনের প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তার আগের সপ্তাহের তুলনায় এই বৃদ্ধি ৫০%।
এই সংখ্যা ৪ জুন তারিখে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল- ৩,৫৭৪। এরপর সংখ্যা সামান্য কমেছিল।
প্রথম দফায় দেশটিতে কভিড-১৯ শনাক্ত হওয়া রোগীর দৈনিক সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৩,১৮৬- ৩০ মার্চ তারিখে। সেসময় চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত দেশগুলোর অন্যতম ছিল ইরান।
তখন ইরানের কর্তৃপক্ষ মসজিদ এবং কওম শহরের প্রধান ধর্মীয় স্থানগুলো বন্ধ করে দেবার ব্যাপারে যে গড়িমসি করছিলেন তা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। চলাফেরা সীমিত করার ক্ষেত্রেও দেশটির সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়নি বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
এরপর এপ্রিল মাসে যখন আক্রান্তের সংখ্যা একদিনে এক হাজারের নিচে নেমে যায়, তখন ইরান লকডাউন শিথিল করতে শুরু করে। একে একে সব মসজিদ, শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মাজার, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, জাদুঘর, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র সব খুলে দেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগেভাগে লকডাউন শিথিল করে ভুল পথে হেঁটেছে ইরান। মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু হওয়ায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে গিয়েছে আরও।
