ফরিদপুরে বরকত-রুবেলের আরও চার দিনের রিমান্ড

আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ০৪:০৯ পিএম

ফরিদপুরে ১২শ’ বস্তা চাল ও বিদেশি মুদ্রাসহ আটক আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের চতুর্থ দফায় আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার দুপুরে ফরিদপুর ১নং আমলি আদালতের বিচারক মো. ফারুক হোসাইনের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার দুপুরে ফরিদপুরের ১নং আমলি আদালতে বরকত ও রুবেলকে হাজির করে পুলিশ।

তাদের কাছ থেকে ১২’শ বস্তা চাল ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক বেলাল হোসেন জানান, গত ১৮ তারিখে মাদক মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। সেই রিমান্ড শেষে রবিবার আদালতে হাজির করা হয় বরকত ও রুবেলকে। চাল ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রবিবার থেকেই এই রিমান্ড কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি।

গত ৭ জুন পুলিশের হাতে আটকের পরে বরকত ও রুবেলের গাড়ির গ্যারেজ, গোডাউন থেকে ১২’শ বস্তা চাল জব্দ করে পুলিশ। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক জাকির হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছে উপপরিদর্শক কবিরুল হক।

এর আগে ১ম দফায় অস্ত্র মামলায় বরকত, রুবেলসহ ৪ জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ, ২য় দফায় সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় বরকত ও রুবেলসহ তিনজনকে আরও ৫ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

৩য় দফায় মাদক দ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার আদালতে হাজির করে চাল উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের মামলায় ৪র্থ দফায় রিমান্ড আবেদন জানালো পুলিশ।

উল্লেখ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা’র বাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গত ৭ জুন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রুবেলসহ ৯ জনকে আটক করে পুলিশ।

পরে রুবেল ও বরকতের দেহ ও বাড়ি তল্লাশি করে ৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিদেশি মদ, ইয়াবা, ডলার, ভারতীয় রুপি ও নগদ ২৯ লক্ষ টাকা এবং ১২’শ বস্তায় ৬০ হাজার কেজি চাল জব্দ করে। সেসব ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

আটকের পর শহর আওয়ামী লীগ জরুরি সভা করে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বরকতকে অব্যাহতি দিয়ে বহিষ্কারের সুপারিশ করে জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রে চিঠি পাঠায়। জেলা বাস মালিক গ্রুপও বরকতকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। অপরদিকে ফরিদপুর প্রেস ক্লাব জরুরি সাধারণ সভার মাধ্যমে ফৌজদারী অপরাধে জরানোয় ক্লাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বিধায় ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি এবং প্রেস ক্লাব থেকে বহিষ্কার করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত