শেরপুরে কাজে আসছে না সোলার ফ্যান্সিং প্রকল্প

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ০৭:২০ এএম

শেরপুরে অকেজো হয়ে আছে হাতি তাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক বেড়া স্থাপনের (সোলার ফ্যান্সিং) প্রকল্প। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকির মানুষ না থাকায় কোনো কাজেই আসছে না এটি। যে কারণে হাতির আক্রমণের শংকায় দিন পার করছেন সীমান্তে বসবাসকারী লাখো মানুষ।

শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী, নালিতাবাড়ি ও ঝিনাইগাতী উপজেলার বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত গারো পাহাড়। এ পাহাড়ি এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা ভারতীয় বন্য হাতি। হাতির উপদ্রুব থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও আফ্রিকার দেশগুলোর আদলে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী সীমান্তের ১৩ কিলোমিটারজুড়ে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে তার দিয়ে বেড়া নির্মাণ করে বন বিভাগ। কিন্তু পরিকল্পনা ও লোকবলের অভাবে এ প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ায় গচ্ছা গেছে সরকারের কোটি টাকা।

প্রথম দিকে কাজে আসলেও তদারকির মানুষ না থাকায় এখন অকেজো সোলার ফ্যান্সিং। সম্প্রতি আবারও হাতির দল তা-ব চালানো শুরু করেছে সীমান্তে। তাই এ মৌসুমেই প্রকল্পটি কার্যকরের দাবি স্থানীয়দের।

কৃষক প্রফুল্ল মারাক বলেন, প্রতি বছর ভারতের পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতির পাল খাদ্যের সন্ধানে এই সব এলাকায় হানা দেয়। বিশেষ করে ইরি, বোরো ও আমন  মৌসুমে হাতির আনাগোনা বেড়ে যায়। পাকা ধান খেতে ফসলের মাঠে হামলে পড়ে হাতির দল। এছাড়া কাঁঠাল, কলা, লাউ, চাল কুমড়া ও বরবটিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি বাগানে প্রবেশ করে ওই সব সবজি খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে হাতির পাল।

শ্রীবরদী ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রাঞ্জল এম সাংমা বলেন, জেলার শ্রীবরদী, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি অঞ্চলে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় ও বাঙালি মিলে আড়াই থেকে তিন লাখ মানুষের বাস। ভারতের বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে চলে আসা বন্য হাতির তান্ডব রুখতে গিয়ে ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ৮০-৯০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০০ একর জমির ফসল। বাজেট পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বন বিভাগের শেরপুর অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রশান্ত কুমার। সোলার ফ্যান্সিং অকেজো থাকার কথা স্বীকার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, প্রকল্পটি পুনরায় চালু করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত