লালমনিরহাটে বিপুল পরিমাণ সরকারী ওষুধসহ দম্পতি আটক

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ০৯:২৩ পিএম

লালমনিরহাটে বিপুল পরিমাণে সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকালে লালমনিরহাট শহরের ড্রাইভারপাড়া রেলওেয়ের একটি বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এসব সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে। এ সময় ওই বাসার মালিক আব্দুর রাজ্জাক রেজা (৪৫) ও তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিনকে (৩৮) আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজা মিয়া গাইবান্ধা জেলার সুন্দগঞ্জ উপজেলার ধুমাইটারী এলাকার মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ও নিলুফা ইয়াসমিন লালমনিরহাট সদর উপজেলার খোচাবাড়ী এলাকার হাবিবুর রহমানের কন্যা।    

অভিযান পরিচালনাকারি লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদিসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেন। উদ্ধার হওয়া মেডিকেল সরঞ্জামাদির মধ্যে ওজন মাপার মেশিন, ডায়াবেটিকস চেক আপ মেশিন, মাস্কস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, প্রেসার মাপার মেশিন রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনের উপস্থিতিতে থানায় জব্দ হওয়া ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি সিজার লিস্ট করে মূল্য নির্ধারনে কাজ করা হচ্ছে। 

পুলিশের হাতে আটক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজা মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৫/৬ বছর থেকে তিনি সরকারি ওষুধ ক্রয় করে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে আসছেন।

তিনি আরো বলেন, লালমনিরহাটের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের লোকজনের সহায়তায় ট্যাবলেট, ক্যাপ্সুল, স্যালাইন, ইনজেকশন ও ডিজিটাল বডি ইলেক্ট্রনিক স্কেল মেশিনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে নিয়ে বাইরে বিক্রি করে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। 

আটক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজা মিয়া ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী শাখা থেকে অফিস সহায়কের পদ থেকে চাকুরিচ্যুত হন। এরপর লালমনিরহাটে চলে আসেন এবং নিলুফা ইয়াসমিনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত ১০/১১ বছর আগে লালমনিরহাট রেলওয়ে অফিস থেকে ড্রাইভারপাড়া কলোনীর একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানেই গড়ে তোলেন সরকারি ওষুধ চোরাকারবারি আস্তানা। টানা গত ৫/৬ বছর থেকে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।  
 
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ছয় মাস ধরে হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করাকালীন সময়ে হাসপাতালের ষ্টোর থেকে কোন ওষুধ চুরি বা পাচারের ঘটনা ঘটেনি। যেহেতু সরকারি ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে তাই তিনি যথাযথভাবে ষ্টোর রুম তল্লাশী করবেন। এতে কোন ঘাটতির ঘটনা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, পুলিশের অভিযানে সরকারি ওষুধ ও ইলেক্ট্রনিক মেশিন সহ এক দম্পতিকে আটকের কথা শুনেছি। সেসব ওষুধ ও মেশিন লালমনিরহাটের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কি-না-খতিয়ে দেখার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি। যদি লালমনিরহাট জেলার কোনো সরকারি হাসপাতালের হয়ে থাকে তাহলে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ি সরকারি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামাদি পাচার ও বাজারজাতকারি সিন্ডিকেটের অন্যদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালাবেন বলে জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত